‘ইহুদি সম্প্রদায়ের অপমান!’ ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে জোহরান মামদানি

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রের পদে বসার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে শিরোনামে উঠে এসেছেন জোহরান মামদানি। তবে এবার তিনি বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ইসরায়েল দিবসের বার্ষিক প্যারেড বর্জন করার সিদ্ধান্তের কারণে। আমেরিকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মেয়র হিসেবে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী প্যারেড এড়িয়ে চলায় নিউ ইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কেন এই বর্জন?
৩১ মে আয়োজিত ইসরায়েল দিবসের এই প্যারেড কয়েক দশক ধরে নিউ ইয়র্কের মেয়র ও উচ্চপদস্থ নেতাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। তবে জোহরান মামদানি তাঁর স্পষ্ট ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে এই প্যারেডে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচনকালীন প্রচারণার সময়েই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলি সরকারের নীতির প্রতি ভিন্নমত থাকায় তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না। তিনি অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, প্যারেড যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য পুলিশ প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ইহুদি সম্প্রদায়ের তীব্র প্রতিক্রিয়া
মামদানির এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখছেন। লং আইল্যান্ডের হ্যাম্পটন সিনাগগের প্রধান রাব্বি মার্ক শ্নাইয়ার সরাসরি আক্রমণ করে বলেছেন, “আপনি যদি প্যারেডে আসতে না চান, তবে বাড়িতেই থাকুন। আপনাকে আমাদের প্রয়োজন নেই।” অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ, যিনি নিজেও একজন ইহুদি, তিনি মেয়রের থেকে ভিন্ন পথে হেঁটে গর্বের সঙ্গেই এই প্যারেডে অংশগ্রহণ করেছেন।
নাকবা ভিডিও ও নতুন করে বিতর্ক
প্যারেড বর্জনের ঘটনার ঠিক দু-সপ্তাহ আগে মেয়র কার্যালয় থেকে ‘নাকবা’ (১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি) স্মরণে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেই ভিডিওটি নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন ইসরায়েল সমর্থক সংগঠনগুলো। তাঁদের অভিযোগ ছিল, ভিডিওটিতে একদিকে যেমন ফিলিস্তিনিদের আবেগকে তুলে ধরা হয়েছে, তেমনই হলোকাস্টের পরে ইহুদিদের রাষ্ট্র গঠনের দাবি ও মুসলিম দেশগুলো থেকে ইহুদিদের বিতাড়িত হওয়ার ইতিহাসকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।
মেয়রের অবস্থান
নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে পরিচিত জোহরান মামদানি বরাবরই ফিলিস্তিনি অধিকারের সোচ্চার সমর্থক। তবে তিনি একইসঙ্গে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে তাঁর দ্বিমত নেই। তাঁর বিরোধিতাস্বত্বেও তিনি নিউ ইয়র্কে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন।
শহরের রাজনৈতিক মহলে এই প্যারেড বর্জন এবং নাকবা ভিডিও নিয়ে বিতর্ক বর্তমানে এক বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির এই পদক্ষেপ নিউ ইয়র্কের মিশ্র সংস্কৃতি ও ধর্মীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল।