ভারতের বিরুদ্ধে চীন-ব্রিটেনকে ডাকতে গিয়ে বড় ধাক্কা খেলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ!

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ মেটাতে তৃতীয় কোনো দেশকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। কিন্তু সেই উদ্যোগ যে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে, তা এখন স্পষ্ট। ব্রিটেন ও চীন—উভয় দেশই নেপালের এই মধ্যস্থতার অনুরোধে কার্যত সাড়া দেয়নি। ফলে, সীমান্ত ইস্যু নিয়ে নেপালের বর্তমান নেতৃত্বের কূটনৈতিক কৌশল বড়সড় ব্যর্থতার দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা?
গত রবিবার (৩১ মে) নেপালের সংসদে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ দাবি করেন, ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধ নিরসনে তিনি ব্রিটেন ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। নেপালের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রব ফেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটি ভারত ও নেপালের মধ্যকার সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়। ব্রিটেন কোনোভাবেই এতে মধ্যস্থতা করবে না। ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির দোহাই দিয়ে নেপাল ব্রিটেনকে আহ্বান জানালেও, লন্ডন তাদের সেই প্রস্তাবে সরাসরি ‘না’ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, চীনের মনোভাবও বেশ রহস্যময়। বেইজিংয়ের কাছে মধ্যস্থতার অনুরোধ জানানো হলেও, তারা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া দেয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, একদিকে চীন নিজেই নেপালের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে (বিশেষ করে হুমলা, গোর্খা ও রাসুয়া জেলায়), তাই নেপালের এই আবেদন একপাক্ষিক ও কিছুটা নাটকীয় বলে মনে করছে বিশ্লেষকদের একাংশ।

ভারতের অবস্থান ও নেপালের অভ্যন্তরে চাপ
সীমান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের কঠোর অবস্থান নেপালের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়িয়েছে। তবে এর মধ্যেই আশার আলো দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা:

রবি লামিকশানের দিল্লি সফর: বালেন শাহ যে দলের সদস্য, সেই দলের সভাপতি রবি লামিকশান বর্তমানে দিল্লি সফরে রয়েছেন। দিল্লিতে অবতরণের পরপরই তিনি ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “কোনো বিবাদই দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়।” যা নেপালের প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দেয়।

ভারতের কূটনৈতিক বার্তা: লিপুলেখ ও কালাপানি নিয়ে নেপালের কঠোর বিবৃতির প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাধানীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ধরনের সংবেদনশীল ইস্যু কেবল মুখোমুখি আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।

প্রশ্ন এখন একটাই—এরপর কী?
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই ভারত-বিরোধী অবস্থান নেওয়া বালেন শাহের জন্য এটি বড় কূটনৈতিক পরাজয় হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর শীতল মনোভাব, অন্যদিকে নিজ দলের নেতাদের ভারত-ঘেঁষা অবস্থান—সব মিলিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী এখন ঘরের ভেতরে এবং বাইরে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন। ভারত বারবার আলোচনার পথ খোলা রাখলেও, তৃতীয় পক্ষকে টেনে আনার এই বিফল প্রচেষ্টা নেপালের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।