“টাকা ফিরছে গ্রামে গ্রামে!”—কাটমানি কাণ্ডে কোণঠাসা তৃণমূলের নেতারা

রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতার পাশাপাশি এবার প্রকাশ্য জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে তৃণমূল নেতাদের। দীর্ঘদিনের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি ও তোলাবাজি চালাত স্থানীয় নেতারা। সেই পাপের খেসারত দিতে গিয়ে এখন গ্রামের পর গ্রামে কাটমানির টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন নেতারা।

নামখানায় কাটমানি ফেরতের ভিডিও ভাইরাল সর্বশেষ ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার। বিজেপির শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতা গ্রামবাসীদের হাতে সেই টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছেন, যা আগে ‘কাটমানি’ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় ৪৫টি পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। জনরোষের ভয়ে এখন সেই টাকা ফেরত দিয়ে মুখ রক্ষার চেষ্টা করছেন নেতারা।

কোচবিহার থেকে ইসলামপুর: একই চিত্র নামখানা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। কোচবিহারের ঘুঘুমারিতে পঞ্চায়েত সদস্য জ্যোৎস্না বর্মনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাইকে প্রচার করে টাকা ফেরতের কথা ঘোষণা করতে হয়েছে। একই ছবি দেখা গেছে ইসলামপুরের সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েতেও, যেখানে প্রধান নুর ই বেগমের বিরুদ্ধে আবাস যোজনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সব ক্ষেত্রেই স্থানীয় বাসিন্দারা পথে নেমেছেন, কোথাও কোথাও নেতাদের মারধরের মুখেও পড়তে হয়েছে।

দলনেত্রীর হুঁশিয়ারিও ধোপে টেকেনি ২০১৯ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার প্রকাশ্য জনসভায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘দল কাটমানি নেয় না। কেউ টাকা চাইলে দেবেন না, আমরা প্রশাসনকে কঠোর হতে বলেছি।’’ কিন্তু দলের নিচুতলার নেতাদের ওপর যে শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তার প্রমাণ এখন প্রতিদিনের এই ‘কাটমানি ফেরত’ দেওয়ার ঘটনা। ১৫ বছর ধরে চলা এই কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আমজনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন বাঁধ ভেঙেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হতেই সাধারণ মানুষের ভয়ের দেওয়াল ভেঙেছে। এখন শুধু কাটমানি ফেরত দেওয়াই নয়, বরং এই দুর্নীতিতে জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবিও জোরালো হচ্ছে।