দেড় লক্ষের ঋণ থেকে ৭ লক্ষের প্রতারণা! বৃদ্ধার বাড়ি দখলমুক্ত করে নজির গড়লেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট

চরম আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে এক অসহায় বৃদ্ধার বাড়ি অবৈধভাবে দখল করে নেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক তৎপরতায় মিলল বিচার। গাজিয়াবাদের বিজয়নগর থানার প্রতাপ বিহার এলাকার বাসিন্দা চঞ্চল নামে এক বৃদ্ধার বাড়ি উদ্ধার করে সোমবার তাঁকে হস্তান্তর করলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) রবীন্দ্র কুমার মন্দার।
কীভাবে ঘটেছিল প্রতারণা?
ভুক্তভোগী চঞ্চল জানান, চরম আর্থিক অনটনের সময় তিনি তাজ মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাত্র দেড় লক্ষ টাকা ধার করেছিলেন। ঋণের জামানত হিসেবে তিনি তাঁর বাড়ির মূল কাগজপত্র বন্ধক রেখেছিলেন। অভিযোগ, তাজ মোহাম্মদ কৌশলে সেই ঋণের সুদ বাড়িয়ে ৭ লক্ষ টাকায় দাঁড় করায়। এই বিপুল পরিমাণ টাকা শোধ করতে না পারায় প্রতারণামূলকভাবে বৃদ্ধার বাড়িটি দখল করে নেওয়া হয়। পরে বাড়িটি মোমিন নামে আরও এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছিলেন ওই বৃদ্ধা।
ডিএম-এর ত্বরিত পদক্ষেপ:
২৯ মে ‘জনতা দর্শনে’ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সশরীরে হাজির হয়ে অভিযোগ জানান চঞ্চল। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে ডিএম রবীন্দ্র কুমার মন্দার অবিলম্বে সদর মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) ও পুলিশের একটি যৌথ তদন্তকারী দল গঠন করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর, সোমবার ডিএম নিজে বিপুল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে আবেগাপ্লুত বৃদ্ধার হাতে তাঁর বাড়ির চাবি তুলে দেন।
মাফিয়াদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি:
অভিযুক্ত তাজ মোহাম্মদ অতীতেও জমি দখলের অভিযোগে জেল খেটেছে। এদিন ডিএম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জেলায় ভূমি মাফিয়া বা মহাজনদের শোষণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের জেলে পাঠানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর প্রতিক্রিয়া:
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর নিজের হারানো বাড়ি ফিরে পেয়ে কেঁদে ফেলেন বৃদ্ধা চঞ্চল। তিনি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং গাজিয়াবাদ জেলা প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্র কুমার মন্দার স্পষ্ট করেছেন, সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং মাফিয়াদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অবিরাম চলবে।