আধার ও ব্যাঙ্ক নথি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দুর্নীতিতে নবান্নের কড়া পদক্ষেপ

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগী হওয়ার কথা ছিল রাজ্যের মহিলারা, কিন্তু সেই সরকারি অনুদান একাধিক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। এই ঘটনার তদন্তে রাজ্য সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। ডিআইজি (সিআইডি)-র নেতৃত্বে এই দল দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছে।
তদন্তের মূল চ্যালেঞ্জ ও কৌশল:
সিআইডি সূত্রে খবর, এটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এসআইটি ধাপে ধাপে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে:
ব্যাঙ্ক নথির চুলচেরা বিশ্লেষণ: সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টগুলোর কেওয়াইসি (KYC), অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্ম, প্যান এবং [Aadhaar Redacted] সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের কোনো গরমিল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডেটাবেস ভেরিফিকেশন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমস্ত আবেদনপত্র পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। আবেদনকারীর নাম, লিঙ্গ, বয়স ও ঠিকানার সঙ্গে সরকারি ডেটাবেস মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথায় তথ্য যাচাইয়ে গাফিলতি হয়েছে বা কারা জাল নথি তৈরিতে সহায়তা করেছে, সেই দিকটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মানি ট্রেইল বা অর্থের গতিপথ: অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পর সেই টাকা নগদে তোলা হয়েছে নাকি অন্য কোথাও সরানো হয়েছে, তা ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট দেখে পরীক্ষা করা হচ্ছে। একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে টাকা পৌঁছাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাদের ভূমিকা সন্দেহের তালিকায়?
তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই দুর্নীতিতে সরকারি কর্মী, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বা স্থানীয় স্তরের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির হাত থাকতে পারে। আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে তথ্য আপলোড ও অনুমোদনের প্রতিটি স্তরে কারা যুক্ত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ২২টি সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টের হদিস মিললেও, তদন্তকারীরা রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও একই ধরনের দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা যাচাই করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ:
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের এই বৃহত্তর চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে ব্যাঙ্ক নথি, আধার তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান—সবই একসঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির আধিকারিকরা।
প্রশাসনিক মহলের মতে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় রাজ্য সরকারের এই তদন্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।