মমতার ডাকে গরহাজির ৬০ বিধায়ক! কালীঘাটের অন্দরে চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে যেন ভূমিকম্পের আবহ। একদিকে দলত্যাগী বিধায়কদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন দলেরই একাংশ। রাজনৈতিক মহলে এখন তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা—তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কি মহারাষ্ট্রের শিবসেনা স্টাইল বিভাজন আসন্ন?

‘মহারাষ্ট্র মডেল’ কি তবে বাংলায়?
২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে যেভাবে শিবসেনার অন্দরে ভাঙন ধরেছিল, পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পর বিভাজনের সুর আরও তীব্র হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের প্রায় ৫০ জন বিধায়ক এবং বেশ কয়েকজন সাংসদ বর্তমানে বিদ্রোহী অবস্থানে রয়েছেন। তাঁরা আলাদা কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ বা নতুন দল গঠনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে।

কালীঘাটের বৈঠকে অনুপস্থিতি:
সম্প্রতি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জনই অনুপস্থিত ছিলেন। উল্টোদিকে, রথিন ঘোষের বাড়িতে বেশ কয়েকজন বিধায়কের গোপন বৈঠক ঘিরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও রথিন ঘোষ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সভার অনুপস্থিতিকে ঢাকার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ ভিন্ন কথা বলছে।

বিজেপির দিকে আঙুল মমতার:
দলের এই চরম অস্থিরতার জন্য সরাসরি বিজেপি এবং দলের এক অংশের দিকেই আঙুল তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, “পুলিশকে ব্যবহার করে এবং অস্ত্র আইনের ভয় দেখিয়ে আমার বিধায়কদের সভায় যোগ দিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি ভয় ও ঘুষের রাজনীতি করছে।” তাঁর দাবি, দলের কিছু নেতা দেশদ্রোহীর মতো আচরণ করছেন, যা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে?
তৃণমূলের টিকিটে জেতা বিধায়কদের বিদ্রোহ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা—সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে সরকারি দপ্তরে শূন্যপদ পূরণ ও ডিএ ইস্যু, অন্যদিকে দলের অন্দরে ভাঙনের আশঙ্কা—এই উভয় সংকটে বঙ্গ রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।