ইতিহাসের কি পুনরাবৃত্তি? তৃণমূল ভেঙে নতুন দল! নেপথ্যে কি ঋতব্রত?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কি ফের কোনো বড় পরিবর্তনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে? বিগত কয়েকদিনের রাজনৈতিক ঘটনাক্রম ও দলের অন্দরের অস্থিরতা নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর চর্চা—তৃণমূল কংগ্রেস কি ভেঙে নতুন কোনো দল তৈরি হতে চলেছে? এই জল্পনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একদা সিপিএমের ডাকসাইটে নেতা ও বর্তমানে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম।

মমতার পাল্টা চ্যালেঞ্জ শাসকদলের অন্দরে বিদ্রোহ ও দল ভাঙার গুঞ্জন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই নিজের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সম্প্রতি এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘‘আমি বড় খেলোয়াড়। তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙা এত সহজ নয়। কিছু নেতা বিজেপির কথায় কাজ করছেন, সাংসদ হয়েও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। এসব করে দলকে দুর্বল করা যাবে না।’’ নেত্রীর সাফ কথা, পরিবারতন্ত্র বা টিকিটের লোভ দেখিয়ে দলকে ভাঙার অপচেষ্টা সফল হবে না।

বাংলার রাজনীতি: দল ভাঙার দীর্ঘ ইতিহাস পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, দল ভাঙা ও নতুন দল গড়ার ইতিহাস খুব একটা নতুন নয়।

  • বাংলা কংগ্রেসের উত্থান: ১৯৬০-এর দশকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে অজয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল ‘বাংলা কংগ্রেস’। বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে ১৯৬৭ ও ১৯৬৯ সালে তারা যুক্তফ্রন্ট সরকারে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। পরবর্তীকালে অবশ্য সেই দল ফের কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যায়।

  • বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস: অজয় মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে বাংলা কংগ্রেস আবার ভেঙে তৈরি হয় ‘বিপ্লবী বাংলা কংগ্রেস’। ১৯৭১ সালে সুকুমার রায়ের নেতৃত্বে গঠিত এই দলটি বর্তমানে বামফ্রন্টেরই অন্যতম শরিক।

  • তৃণমূলের জন্ম: ১৯৯৮ সালে কংগ্রেসের অন্দরে মতপার্থক্যের জেরেই বেরিয়ে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গড়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস। পরবর্তীকালে সেই তৃণমূলই ২০০১, ২০০৬ ও ২০০৯-এর বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০১১ সালে দীর্ঘ ৪৩ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটায়।

এখন কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যেভাবে তৃণমূলের বর্তমান নেতাদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং বহিষ্কৃত নেতারা নতুন মঞ্চ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তা কি বাংলা কংগ্রেস বা তৃণমূলের জন্মের ইতিহাসের মতো আরও এক নতুন দল গড়ার সংকেত? নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বড় খেলোয়াড়’ তত্ত্বে ভর করে তৃণমূল এই ভাঙন ও বিদ্রোহের ঝড় সামলে নেবে—এখন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।

রাজ্যের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, তা দেখার অপেক্ষায় বাংলার মানুষ।