তৃণমূলে কি মহারাষ্ট্র মডেলের পুনরাবৃত্তি? বহিষ্কৃত বিধায়কদের ঘিরে ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে

বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের সুর আরও জোরালো হলো। সোমবার দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা—তৃণমূলে কি ‘মহারাষ্ট্র মডেল’-এর পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের বহু বিক্ষুব্ধ বিধায়ক, এমনটাই খবর সূত্রের।
গণিতের গোলকধাঁধায় তৃণমূল:
বিধানসভায় দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে বা তৃণমূলের প্রতীকের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে বিদ্রোহী শিবিরের প্রয়োজন ৫২ জন বিধায়কের সমর্থন (তৃণমূলের বর্তমান বিধায়ক সংখ্যা ৭৮-এর দুই-তৃতীয়াংশ)। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে ইতোমধ্যেই প্রায় ৫০ জন বিধায়ক গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলের একাধিক বিধায়ক এই বহিষ্কৃতদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গিয়েছে।
হস্টেলে ঘরোয়া আড্ডায় ‘সরকার বদলের’ ছক?
এমএলএ (MLA) হস্টেলে ঋতব্রত ও সন্দীপনের সঙ্গে তৃণমূলের একঝাঁক বিধায়কের দেখা করা ও আড্ডা দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ফোনে প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেক বিধায়কই তাঁদের সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি বহিষ্কৃত শিবিরের। আজ, মঙ্গলবারই কি বিধানসভায় কোনো বড় চিঠি জমা পড়তে চলেছে? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল।
মহারাষ্ট্র মডেলের আতঙ্ক:
শিবসেনা বা এনসিপি-র মতো তৃণমূলও কি আড়াআড়ি ভাঙনের মুখে? শিবসেনার ক্ষেত্রে যেভাবে দল ও প্রতীকের অধিকার নিয়ে লড়াই হয়েছিল, তৃণমূলের অন্দরেও সেই একই আশঙ্কা দানা বাঁধছে। মমতার হাত থেকে কি দল ও প্রতীক দুই-ই বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম? বিধানসভার অন্দরে সংখ্যাতত্ত্বের যে খেলা শুরু হয়েছে, তা শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এদিকে, নির্বাচনের ফল বিপর্যয়ের পর মঙ্গলবারই পথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে রাস্তায় তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা, অন্যদিকে বিধানসভার অন্দরে দলের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া এই ‘অন্তর্ঘাত’—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতি এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে।