নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বললেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের চরম ভর্ৎসনায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল

একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত যুদ্ধক্ষেত্র, অন্যদিকে দুই বন্ধুর ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কে কি তবে চূড়ান্ত ফাটল ধরল? সাম্প্রতিক এক ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। ইরান ও লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।
ফোনে ‘পাগল’ সম্বোধন ট্রাম্পের!
অ্যাক্সিওসের সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ফোনে আলোচনার সময় মেজাজ হারিয়ে নেতানিয়াহুকে রীতিমতো আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘পাগল’ বলে সম্বোধন করেন। শুধু তাই নয়, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও আইনি সুরক্ষায় নিজের অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তুমি একেবারে পাগল হয়ে গিয়েছ! আমি না থাকলে আজ তোমাকে জেলে থাকতে হতো। আমি তোমাকে রক্ষা করছি, অথচ তোমার কাজের জন্য এখন সবাই তোমাকেও ঘৃণা করছে, ইজরায়েলকেও ঘৃণা করছে।”
যুদ্ধবিরতি না মানার জের?
কেন এমন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প? বিশ্লেষকদের মতে, এর মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি:
ইরান ইস্যু: ট্রাম্প চাইছেন ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে গিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে, যাতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বজায় থাকে।
লেবানন ও হিজবুল্লাহ: অন্যদিকে, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার দাবি উঠলেও, ইজরায়েল থামতে নারাজ। নেতানিয়াহুর স্পষ্ট বার্তা— হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ না করলে বৈরুতে অভিযান চলবে।
দুই রাষ্ট্রনেতার ভিন্ন অবস্থান
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পরেও নেতানিয়াহু নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণ অংশে আইডিএফ (IDF)-এর পরিকল্পিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্প যেখানে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যকে শান্ত করতে চাইছেন, সেখানে নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশল ট্রাম্পের পরিকল্পিত ‘শান্তি পরিকল্পনা’-র পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুই রাষ্ট্রনেতার এই সরাসরি সংঘাত আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি ইজরায়েলের সামরিক নীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন সরগরম আন্তর্জাতিক কূটনীতি।