‘রগড়ানি’ পোস্ট বিতর্ক, পরমব্রতকে বড় রক্ষাকবচ হাইকোর্টের, স্বস্তির নিঃশ্বাস অভিনেতার

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি পোস্টের জেরে আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। শেষমেশ নিজেকে বাঁচাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শুক্রবার সেই মামলায় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে বড়সড় রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত আগামী চার সপ্তাহ অভিনেতার বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।
কী ছিল সেই বিতর্কিত পোস্ট? একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন টুইটারে (বর্তমান এক্স) পরমব্রত লিখেছিলেন, “আজকে বিশ্ব রগড়ানি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক।” এই পোস্টে হাসির ইমোজি দিয়ে সমর্থন জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ, এই পোস্ট রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসাকে উসকে দিয়েছে। আইনজীবী জয়দীপ সেনের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পরমব্রত ও স্বস্তিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ (হিংসা উসকে দেওয়া) এবং ১০৯ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী আইনজীবী দাবি করেছেন, এই মন্তব্যের ফলেই রাজ্যে বিজেপি কর্মী হত্যা ও নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছে।
হাইকোর্টে কী জানাল পুলিশ ও পরমব্রতর আইনজীবী? শুক্রবার আদালতে পরমব্রতের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় সওয়াল করেন, “পাঁচ বছর আগের একটি পোস্ট নিয়ে কেন হঠাৎ এই অভিযোগ? এই এফআইআরের কোনো ভিত্তি নেই এবং ওই মন্তব্যের জন্য কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।” তাই অবিলম্বে এই এফআইআর খারিজের আর্জি জানান তিনি। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলতে থাকবে এবং অভিনেতাকেও সেই তদন্তে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তবে আপাতত চার সপ্তাহ পুলিশ কোনো কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
তদন্তের মুখে স্বস্তিকাও উল্লেখ্য, এই একই মামলায় এর আগে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে গড়িয়াহাট থানায় তলব করা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ১ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে এই চাঞ্চল্যকর মামলা নিয়ে পরমব্রত বা স্বস্তিকা কেউই প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর একটি পুরনো পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হওয়ায় টলিপাড়ায় ব্যাপক চর্চা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ার স্বাধীনতা বনাম আইনি বিধিনিষেধের এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।