আপনার মানিব্যাগের ৫০০ টাকার নোটটি আসল তো? হু হু করে বাড়ছে জাল নোট, সতর্ক করল RBI!

নোটবন্দির প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও জাল নোটের সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না। দেশের অর্থনীতিতে ফের নতুন করে আতঙ্ক ছড়ালো রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর সাম্প্রতিক বার্ষিক রিপোর্ট। তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বাজারে ৫০০ টাকার জাল নোটের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

RBI-এর রিপোর্টে যা উঠে এল: রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় জাল নোট উদ্ধারের হার প্রায় ৫.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • জাল নোটের মোট সংখ্যা: গত অর্থবর্ষে যেখানে ২,১৭,৩৯৬টি জাল নোট ধরা পড়েছিল, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,২৯,৭৪৬টি

৫০০ টাকার নোটে নজর জালিয়াতদের: বাজারে ২০০০ টাকার নোট উঠে যাওয়ায় ৫০০ টাকার নোটই এখন লেনদেনের মূল মাধ্যম। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে জালিয়াত চক্র। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে:

  • ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ: উদ্ধার হয়েছিল ১,১৭,৭২২টি জাল ৫০০ টাকার নোট।

  • ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ: এই সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪১,৯০৭টি। অর্থাৎ, এক বছরে ৫০০ টাকার জাল নোট বৃদ্ধির হার রেকর্ড ২০.৫ শতাংশ

কেন বাড়ছে আতঙ্ক? এক সময় দাবি করা হয়েছিল, নতুন ৫০০ টাকার নোটের নিরাপত্তা ফিচার—যেমন মাইক্রো-লেটারিং, সিকিউরিটি থ্রেড ও ল্যাটেন্ট ইমেজ নকল করা অসম্ভব। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে যে, জালিয়াতরা এখন নতুন নোটের সেই নিরাপত্তা বলয়ও অনায়াসে ভেদ করে ফেলছে। তবে স্বস্তির বিষয়, ১০০, ২০০ এবং ৫০ টাকার জাল নোট উদ্ধারের সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, ২০ টাকার জাল নোটের সংখ্যা ৪৭.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সতর্ক থাকবেন কীভাবে? ১. কোনো দোকান বা লেনদেনের সময় নোটটি ভালো করে পরীক্ষা করে দেখুন। ২. নোটের সিকিউরিটি থ্রেড এবং ল্যাটেন্ট ইমেজ (যা আলোর বিপরীতে ধরলে বোঝা যায়) খুঁটিয়ে দেখুন। ৩. সন্দেহজনক নোট হাতে পড়লে তা ব্যাঙ্কে জমা দিন এবং নতুন নোট সংগ্রহের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।

নোটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী রাখা যায়, তা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনার মানিব্যাগে থাকা ৫০০ টাকার নোটটি পরীক্ষা করে নেওয়া এখন জরুরি।