সোনারপুরে রণক্ষেত্র! পচা ডিম-ঘুষি, অভিষেককে বাঁচাতে নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী; সরব খাড়গে-অখিলেশ

শনিবার বিকেলে সোনারপুরের মাটিতে যেন এক অভূতপূর্ব জনরোষের সাক্ষী থাকল বাংলা। নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার চরম বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, তাঁকে উদ্ধারে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
মুহূর্তে রণক্ষেত্র সোনারপুর: অভিষেক সোনারপুরে পা রাখতেই শুরু হয় ‘চোর-চোর’ স্লোগান। মুহূর্তের মধ্যে তা সহিংস রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিষেককে লক্ষ্য করে পচা ডিম ছোড়া হয়। উত্তপ্ত জনতা তাঁকে এলোপাথাড়ি চড় ও ঘুষিও মারতে থাকে। জীবন বাঁচাতে ও মাথা বাঁচাতে অভিষেক বাধ্য হন হেলমেট পরতে। এই ধস্তাধস্তিতে তাঁর পরনের জামা ছিঁড়ে যায় এবং চশমাও ভেঙে যায়। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কার্যত যুদ্ধ করতে হয়। এমনকি, সাংসদ এলাকা ছাড়ার সময়ও উত্তেজিত জনতার একটি অংশ তাঁর পিছু ধাওয়া করে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের জাতীয় রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিরোধী নেতারা তৃণমূল নেতার ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন:
-
মল্লিকার্জুন খাড়গে (কংগ্রেস): তিনি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “বিরোধী নেতার সুরক্ষার অভাব বিজেপির প্রতিহিংসার রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। পশ্চিমবঙ্গ ও কেন্দ্রীয় সরকারকে এই ঘটনার দায় নিতে হবে।”
-
অখিলেশ যাদব (সমাজবাদী পার্টি): অখিলেশ এই ঘটনাকে ‘নৃশংস’ বলে বর্ণনা করে অভিযোগ করেন, রাজ্যে নৈরাজ্য তৈরিতে বিজেপি ঘৃণ্য রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: সাংসদের ওপর এই হামলার সময় পুলিশের অভাব বা নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ইতিমধ্যে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর থেকে গোটা সোনারপুর এলাকা থমথমে। একদিকে রাজনৈতিক উত্তাপ, অন্যদিকে জনরোষ— সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া এই হামলার ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হলো নতুন বিতর্ক।