অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় চমক! ফর্ম জমা দিলেই ৩০০০ টাকা নয়, জানালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল

আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। তবে ফর্ম পূরণ করলেই যে টাকা মিলবে, সেই নিশ্চয়তা নেই। প্রকল্প শুরুর ঠিক আগেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করলেন নারীকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
কেন এই কড়াকড়ি? মন্ত্রী যা বললেন: আগে ধারণা ছিল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধা পাবেন। তবে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সাফ জানিয়েছেন, ফর্ম জমা দেওয়ার পর প্রতিটি তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। মন্ত্রীর কথায়, “আমরা জানতাম না যে এত পুরুষের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকত!” এই অনিয়ম রুখতেই এবার প্রতিটি আবেদন খতিয়ে দেখা হবে।
১২ পাতার ফর্মের নেপথ্যে আসল লক্ষ্য: মন্ত্রী জানান, এই ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্মটি শুধুমাত্র অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নয়, বরং আগামী দিনে রাজ্যে কার্যকর হতে চলা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির জন্য একটি অভিন্ন ‘ডেটাবেস’ বা তথ্যভাণ্ডার তৈরির প্রাথমিক পদক্ষেপ। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিকের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে রাখা।
বাদ পড়তে পারেন ৩০ লক্ষ নাম? সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তালিকায় অন্তত ৩০ লক্ষ ‘ভুয়ো’ নাম রয়েছে। এই তালিকায় বহু পুরুষের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে অভিযোগ। তাই প্রকৃত ও যোগ্য সুবিধাভোগী চিহ্নিত করতেই এই কঠোর স্ক্রুটিনি। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। প্রতিটি ফর্ম যাচাইয়ের মাধ্যমে অযোগ্য ও ভুয়ো নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে খবর।
অতএব, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের এখন কেবল ফর্ম পূরণের ওপর নয়, স্বচ্ছ নথিপত্র এবং যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করার ওপরই বাড়তি নজর রাখতে হবে।