৪৩ ডিগ্রি তাপে জ্বলছে পিচ, জিরো সুবিধা: কর্পোরেট ‘অন্ধকার’ গলি থেকে এক ‘গিগ’ শ্রমিকের আর্তনাদ!

দিল্লির তপ্ত পিচ। তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। এই চরম দাবদাহেও থেমে নেই চাকা। ফুটপাথেই দুপুরের অন্ন মুখে তুলছেন ২৫ বছরের আরবাজ। মাথার ওপর নেই কোনো ছাউনি, গলা ভেজানোর মতো এক ফোঁটা ঠান্ডা জলও জোটেনি কপালে। কারণ, ‘জেপ্টো’ (Zepto)-র মতো কুইক-কমার্স সংস্থাগুলোর কাছে তাঁর পরিচয় কেবল একজন ‘ডেলিভারি পার্টনার’। তাঁর কোনো অফিস নেই, নেই বিশ্রামের নূন্যতম ঠাঁই।

গত ২৩ মে, শনিবার দুপুরে দিল্লির কালকাজি মেট্রো স্টেশনের বাইরে বাইকের তপ্ত সিটটুকুই ছিল তাঁর একমাত্র ঠিকানা। মোবাইলের স্ক্রিনে অ্যাপের ‘ডিং’ শব্দ শোনা মাত্রই আইসক্রিম কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার নেশায় ছুটতে হয়। লজিস্টিকসের সেই অন্ধকার গুদাম বা ‘ডার্ক স্টোর’ থেকে গ্রাহকের দোরগোড়া—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছাতেই হবে। নাহলে শাস্তিস্বরূপ মিলতে পারে পে-কাট।

এক সাংবাদিকের বাস্তব অভিজ্ঞতা: গিগ কর্মীদের এই অমানবিক জীবনযাত্রা চাক্ষুষ করতে ‘দ্য ওয়্যার’-এর এক সাংবাদিক নিজেই জেপ্টো, ব্লিনকিট এবং সুইগি ইনস্টামার্টে ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর অভিজ্ঞতা বলছে, এই চাকচিক্যময় ‘১০ মিনিটে ডেলিভারি’-র আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ বাস্তব।

প্রতিবেদনের মূল দিকসমূহ:

  • কর্পোরেট উদাসীনতা: সংস্থাগুলোর অ্যাপে প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব থাকলেও, তীব্র দাবদাহে শ্রমিকদের জল কিংবা আশ্রয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।

  • বিশ্রামহীন দৌড়: লাভের অংকে যখন কর্পোরেট সংস্থাগুলো নিজেদের উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, তখন গিগ কর্মীরা ৪৩ ডিগ্রি গরমেও বিশ্রাম নেওয়ার ন্যূনতম অধিকার থেকে বঞ্চিত।

  • পেশাগত নিরাপত্তা ও অনিশ্চয়তা: গিগ ওয়ার্কাররা এখন আর কেবল শ্রমিক নন, তাঁদের অস্তিত্ব যেন ডিজিটাল অ্যাপের এক একটি ‘বট’। কোনো সামাজিক সুরক্ষা বা শারীরিক নিরাপত্তার দায় নিচ্ছে না সংস্থাগুলো।

‘কুইক কমার্স’-এর এই প্রতিযোগিতায় সাধারণ মানুষের ঘরের দরজায় পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে বটে, কিন্তু তার বিনিময়ে রোজ কতজন আরবাজের স্বাস্থ্য ও মর্যাদা তপ্ত পিচে ঝরে পড়ছে—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।