সুকেশের ২০০ কোটির মামলায় বড় বিপাকে জ্যাকলিন! আদালতের নির্দেশে গ্রেফতারির মুখে অভিনেত্রী?

বহুচর্চিত ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ মামলায় বড় মোড়। শনিবার দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ, কথিত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখর, সুকেশের স্ত্রী লিনা মারিয়া পল এবং আরও ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (charges) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের এই বিতর্কিত মামলার বিচারপর্ব শুরু হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: অতিরিক্ত দায়রা বিচারক প্রশান্ত শর্মা জানান, ইডির তদন্তে পাওয়া তথ্যাদি পর্যালোচনার পর প্রাথমিক দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর ৩ নম্বর ধারায় অপরাধ এবং ৪ নম্বর ধারায় শাস্তির যোগ্য অভিযোগ আনা হবে।
কী ঘটেছিল এই মামলায়? মূল অভিযোগ, দিল্লির তিহার জেলে বন্দি থাকাকালীন সুকেশ চন্দ্রশেখর প্রাক্তন র্যানব্যাক্সি কর্তা শিবিন্দর সিংয়ের স্ত্রী অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে সরকারি আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। ইডি-র দাবি, এই প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একাংশ বিভিন্ন উপহার ও বিলাসবহুল সামগ্রী কেনার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল, যা অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজও গ্রহণ করেছিলেন।
জ্যাকলিনের আবেদন ও বর্তমান পরিস্থিতি: মামলা চলাকালীন জ্যাকলিন নিজে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা সরকারি সাক্ষী হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইডি এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, অভিনেত্রী এই অপরাধের একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাভোগী’ (beneficiary) এবং আর্থিক তছরুপের প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন। বর্তমানে অভিনেত্রী এই আবেদনটি প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে দিল্লির হাইকোর্টও জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অতিরিক্ত চার্জশিট খারিজ করার আবেদন নাকচ করে দিয়েছিল। বিচারক আগামী ৩ জুন মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন, যেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ বা অভিযোগপত্র সই হওয়ার কথা। এই দিন সমস্ত অভিযুক্তকে সশরীরে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।