২১৫ রান করেও হার রাজস্থানের! পিচের কোন ‘গোপন অস্ত্রে’ কুপোকাত রিয়ান পরাগরা?

গুজরাট টাইটান্স ও রাজস্থান রয়্যালসের কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে যেন হারের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ালো ক্রিকেট মাঠের একটি ‘অদৃশ্য খেলোয়াড়’—ভারী রোলার! ২১৫ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নিয়েও জয় ধরে রাখতে পারেনি রাজস্থান রয়্যালস। হারের পর রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগের মন্তব্যে এখন তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্বে।
কী বলেছিলেন রিয়ান পরাগ?
ম্যাচ শেষে হতাশ পরাগ স্পষ্ট জানান, রাজস্থানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল যথেষ্ট লড়াই করার মতো। তবে ইনিংসের বিরতিতে পিচে ভারী রোলারের ব্যবহার পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার মতে, ভারী রোলারের ব্যবহারে পিচ আচমকাই ব্যাটিং-ফ্রেন্ডলি হয়ে যায়, যা গুজরাট টাইটানসকে বড় সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। প্রথম ইনিংসে রাজস্থানের স্পিনাররা যে সহায়তা পাচ্ছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে তা উধাও হয়ে যায়—আর এর পেছনে ভারী রোলারের কারসাজিই দেখছেন পরাগ।
ভারী বনাম হালকা রোলার: খেলার নিয়ম ও প্রভাব
আইসিসির নিয়ম ১০(গ) অনুযায়ী, ম্যাচের মাঝে পিচ রোল করার অধিকার পুরোপুরি ব্যাটিং দলের অধিনায়কের। অর্থাৎ, কোন রোলার ব্যবহার হবে, তা বেছে নেওয়ার ক্ষমতা ওই দলেরই হাতে থাকে।
ভারী রোলার (১৫০০-২৫০০ কেজি): এটি পিচের গভীরতা পর্যন্ত মাটি চেপে ধরে, পিচের ফাটল ভরাট করে এবং বাউন্স কমিয়ে দেয়। ফলে বোলারদের সিম মুভমেন্ট কমে যায় এবং ব্যাটসম্যানদের জন্য পিচ স্বর্গ হয়ে ওঠে। মূলত স্পিনারদের প্রভাব কমাতেই দলগুলো এই কৌশল নেয়।
হালকা রোলার (৫০০-১০০০ কেজি): এটি মূলত উইকেটের ওপরের অংশ মসৃণ করতে ব্যবহৃত হয়। এতে পিচের মৌলিক চরিত্রে বিশেষ পরিবর্তন আসে না, ফলে বোলাররা কিছুটা সুবিধা বজায় রাখতে পারেন।
ক্রিকেটে রোলারের বিবর্তন
১৯৩০-এর দশকে মানুষচালিত রোলারের প্রচলন থাকলেও, আধুনিক ক্রিকেটে এখন মোটরচালিত রোলারের জয়জয়কার। টেস্ট ক্রিকেটে পিচের স্থায়িত্ব রক্ষায় এর গুরুত্ব অপরিসীম হলেও, টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডেতে এই রোলারই মাঝে মাঝে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে।
আইসিসির আইন অনুযায়ী পিচের ওপর ব্যাটিং দলের নিয়ন্ত্রণ থাকাটা ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু রিয়ান পরাগের এই অভিযোগ প্রমাণ করে যে, কৌশলগতভাবে পিচের ব্যবহার কোনো দলের জয়-পরাজয়ে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।