কীভাবে নামানো হয়েছিল দেহ? ত্বিশার মৃত্যুতে রহস্য জট খুলতে ঘটনাস্থলে সিবিআই

ভোপালের আলোচিত ত্বিশা শর্মা রহস্যমৃত্যু মামলায় তদন্তের গতি বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)। ঘটনার কিনারা করতে এবার ‘ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন’ বা ঘটনার পুনর্গঠনের পথে হাঁটলেন তদন্তকারীরা। অভিনেত্রীর স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েই পুরো বিষয়টি পুনরায় তৈরি করে দেখবেন গোয়েন্দারা।

কেন এই পুনর্গঠন?
তদন্তকারী সূত্রে খবর, সমর্থ সিং দাবি করেছেন যে ঘটনার দিন তিনিই ত্বিশার দেহ ফাঁস থেকে নামিয়েছিলেন এবং তাঁর মা গিরিবালা সিং গলার ফাঁস খুলেছিলেন। এই দাবিটি বাস্তবের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ। এর জন্য প্রায় ৮০ কেজি ওজনের একটি ডামি ব্যবহার করা হবে। সমর্থ ও গিরিবালাকে সরাসরি দেখাতে হবে, সেদিন ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় তাঁরা পুরো বিষয়টি করেছিলেন। এছাড়া, যে বেল্টটি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে, তা এত ওজন বহন করতে সক্ষম কি না, তাও ফরেন্সিক দল খতিয়ে দেখবে।

জেরার মুখে মা-ছেলে
গত বৃহস্পতিবারই মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে মা ও ছেলে উভয়ই ২ জুন পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীরা প্রথমে তাঁদের আলাদাভাবে জেরা করছেন। পরবর্তীতে মা ও ছেলেকে মুখোমুখি বসিয়ে বয়ানের গরমিল বা অসঙ্গতিগুলি ধরার চেষ্টা করা হবে।

উঠে আসছে নতুন প্রশ্ন
জেরার সময় তদন্তকারীরা শুধুমাত্র ঘটনার রাতের পরিস্থিতি নয়, বরং ত্বিশার গর্ভাবস্থা এবং তাঁর শরীরে পাওয়া একাধিক আঘাতের চিহ্ন নিয়েও কড়া প্রশ্ন করেছেন। গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকা থেকে অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই তাঁর পরিবার পণ ও নির্যাতনের জোরালো অভিযোগ তুলেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এখন প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের অগ্রগতি
এর আগেই দিল্লি থেকে আসা সিবিআই-এর বিশেষ ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছিল। এখন ক্রাইম সিন রিক্রিয়েশন-এর মাধ্যমে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হতে চান, এটি নিছক আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে। অভিযুক্তদের বয়ানের সঙ্গে ডামি পরীক্ষার ফল না মিললে, তদন্তে বড়সড় মোড় আসতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

এই হাই-প্রোফাইল মামলার প্রতিটি আপডেট এখন দেশের বিনোদন জগৎ ও সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। সিবিআই-এর এই কড়া পদক্ষেপ আদতে সত্য সামনে আনে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায়।