অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে চিন্তা? বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য করবেন সরকারি কর্মীরা, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

আগামী মাস থেকে শুরু হতে চলেছে রাজ্যের নতুন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে, এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য নতুন করে ফর্ম পূরণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফর্মে থাকা দীর্ঘ প্রশ্নাবলী ও নথিপত্রের তালিকা নিয়ে উপভোক্তাদের একাংশের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে আসরে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গুজবে কান দেবেন না, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
ফর্মের জটিলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ফর্ম পূরণের জন্য কাউকে কোথাও ছুটতে হবে না। তিনি শনিবার জানিয়েছেন, সরকার বাড়ি বাড়ি প্রতিনিধি পাঠাবে, যাঁরা ফর্ম পূরণে সরাসরি সাহায্য করবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগামী বুধবার থেকে আমরা প্রথম পর্যায়ের টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু করব। কোনো গুজবে কান দেবেন না। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, প্রকৃত যোগ্য প্রাপকরাই যেন এই অর্থ পান।”

ফর্ম পূরণের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া
১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ৯০ দিনের বিশেষ ড্রাইভ। অনলাইন (annapurnabhandarwb.com) এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে। বিডিও, এসডিও বা জেলা শাসকের অফিস থেকে অফলাইন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। বড় পুরসভা বা কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাম্প করে ফর্ম নেওয়া হবে। এছাড়া পঞ্চায়েত এলাকাগুলোতে সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৩০ দিনের বিশেষ ড্রাইভে ফর্ম পূরণে সহায়তা করবেন।

ফর্মে কী কী তথ্য দিতে হবে?
ফর্মটি মোট ৭টি স্তরে বিভক্ত। প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে:

পারিবারিক ও সামাজিক পরিচয়: পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিশুদের বিবরণ এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার তথ্য।

সম্পত্তির বিবরণ: বাড়ি পাকা কি না, পরিবারের মোট জমির পরিমাণ, মিউটেশন কপি ও হালনাগাদ আরআরও (RoR) নথি।

যানবাহন ও বীমা: পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি থাকলে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মডেল, এবং স্বাস্থ্য বীমা থাকলে তার প্রিমিয়াম ও কভারেজের অঙ্ক।

আয় ও ভর্তুকি: পরিবারের মোট মাসিক আয় এবং খাদ্য ভর্তুকি পান কি না, সেই তথ্য।

স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য
সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো, আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মতো যেন এই প্রকল্পেও কোনো ‘দু-নম্বরি’ না হয়। অভারতীয় বা অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কেবল প্রকৃত অভাবী মহিলাদের হাতেই যাতে টাকা পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিস্তারিত তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যাঁরা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন, তাঁদেরও নতুন করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সরকারি সহায়তায় বাড়ি বাড়ি ফর্ম পূরণের এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার দুশ্চিন্তা লাঘব করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।