বাল্যবিবাহে শীর্ষে বাংলা! জাতীয় গড়ের চেয়েও উদ্বেগজনক হার, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

মেয়েদের উচ্চশিক্ষা এবং দেরিতে বিয়ের পক্ষে দেশজুড়ে ধারাবাহিক প্রচার চললেও, ভারতের কিছু রাজ্যে বাল্যবিবাহের চিত্র আজও চরম উদ্বেগজনক। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল (RGI)-এর সাম্প্রতিক ‘স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (SRS) স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিপোর্ট ২০২৪’ অনুযায়ী, বাল্যবিবাহের হারে সারা দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।
রিপোর্টে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
আরজিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা দেশে অধিকাংশ মহিলা বর্তমানে ২১ বছর বয়স পার হওয়ার পরেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। কিন্তু পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মেয়েদের বিয়ের হার সর্বাধিক।
গ্রামীণ চিত্র: পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় বাল্যবিবাহের হার ৫.৯ শতাংশ, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর পরেই রয়েছে ঝাড়খণ্ড (৫.৮%)।
শহরাঞ্চল: শহরাঞ্চলের ছবিটা আরও ভয়াবহ। পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহের হার ৭.৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় মাত্র ১.১ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় গড়ের তুলনায় এই হার প্রায় সাত গুণ বেশি।
দেশের অন্য রাজ্যগুলির অবস্থা
রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, দিল্লিতে বাল্যবিবাহের সংখ্যা একেবারে শূন্য। কেরালার মতো রাজ্যে এই হার ০.০৪ শতাংশ, যা নগণ্য। এছাড়া হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও উত্তরপ্রদেশেও বাল্যবিবাহের হার পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অত্যন্ত কম। বর্তমানে ভারতে মেয়েদের বিয়ের গড় বয়স ২৩.১ বছর হলেও, দেশের প্রায় ২৫ শতাংশেরও বেশি মেয়ে এখনও ২১ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন।
কেন এই পরিস্থিতি বিপজ্জনক?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই বাল্যবিবাহের ধারা কেবল একটি সামাজিক কুসংস্কার নয়, এটি মেয়েদের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ ধ্বংসের কারণ:
১. পড়াশোনা বন্ধ: অল্প বয়সে বিয়ের ফলে মেয়েদের শিক্ষা ও মেধার বিকাশ অকালেই স্তব্ধ হয়ে যায়।
২. স্বাস্থ্যঝুঁকি: কম বয়সে গর্ভধারণের ফলে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়।
৩. কর্মসংস্থানহীনতা: শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ না থাকায় মেয়েরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারে না।
উন্নত ভারত গড়ার পথে এই বাল্যবিবাহ এক বড় অন্তরায়। প্রশাসনিক স্তরে প্রচারের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণই হতে পারে এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ।