স্কুল ছাত্রীদের জন্য মাসিক ‘ঋতুস্রাবকালীন ছুটি’ ঘোষণা, জেনেনিন বিস্তারিত

কেরলে নতুন সরকার গঠনের পরই মহিলাদের কল্যাণে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল ভি. ডি. সতীশনের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) প্রশাসন। রাজ্যের প্রথম নীতিনির্ধারণী বক্তৃতায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর ছাত্রীদের জন্য ‘ঋতুস্রাবকালীন ছুটি’ (Menstrual Leave)-র মতো সাহসী ঘোষণা করে সারা দেশে নজির তৈরি করলেন।
স্কুল ছাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: ‘মেনস্ট্রুয়াল ডিগনিটি’ (Menstrual Dignity) প্রকল্পের আওতায় স্কুল পড়ুয়াদের জন্য প্রতি মাসে ৩ দিনের ঋতুস্রাবকালীন ছুটির কথা ঘোষণা করেছে সরকার। সরকার জানিয়েছে, এই ছুটির ফলে যাতে ছাত্রীদের পড়াশোনায় কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য উইকএন্ডে ‘ক্যাচ আপ’ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ, পঠনপাঠনের ক্ষতি পূরণ করে তাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
কর্মক্ষেত্রে ও সমাজে মহিলাদের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত: শুধু স্কুল নয়, কর্মজীবী মহিলাদের সুরক্ষাতেও বিশেষ নজর দিয়েছে নতুন সরকার:
-
ডে-কেয়ার ও ক্রেশ: ৫০ শতাংশের বেশি মহিলা কর্মী রয়েছেন—এমন সব সরকারি অফিস, আইটি পার্ক এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানে উন্নত মানের ডে-কেয়ার ও ক্রেশ সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
-
অসংগঠিত ক্ষেত্রে সুবিধা: অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মহিলাদের জন্য ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করার পথে হাঁটছে সরকার।
-
পাবলিক সুবিধা: মহিলাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী (স্যানিটারি ন্যাপকিন, জুতো ইত্যাদি) সহজলভ্য করা এবং প্রতিটি শহরে আধুনিক পাবলিক রেস্টরুম তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
‘অনাথ-মুক্ত’ কেরল গড়ার অঙ্গীকার: কেরল সরকারকে দেশের প্রথম ‘অনাথ-মুক্ত’ রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা করেছে ইউডিএফ। এর জন্য দত্তক গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে বিশেষ ক্যাম্পেন এবং জুভেনাইল জাস্টিস আইনের অধীনে ‘ফস্টার ফ্যামিলি’ বা বিকল্প পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া সমকাজে সমবেতন নিশ্চিত করে কেরলকে দেশের সবথেকে মহিলা-বান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য স্থির করেছে নতুন প্রশাসন।
রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই এমন জনকল্যাণমুখী ও প্রগতিশীল উদ্যোগ কেরলের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।