তীব্র গরমে হাঁসফাঁস পশুরা! বাঘ-সিংহের ঘর ঠান্ডা করতে অভিনব উদ্যোগ নেচার পার্কের

দেশজুড়ে চলছে চরম তাপপ্রবাহ। উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতের তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৮ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মানুষ এসির ঠান্ডায় নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও, অসহ্য গরমে নাজেহাল অবস্থা বনের পশুপাখিদের। এই পরিস্থিতিতে গুজরাটের গান্ধীনগরের ‘ইন্দ্রোদা নেচার পার্ক’ কর্তৃপক্ষ এক অনন্য ও মানবিক উদ্যোগ নিলেন।
৬০০ প্রাণীর ভরসা কুলার:
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতোই গুজরাটের তাপমাত্রা এখন তুঙ্গে। ইন্দ্রোদা নেচার পার্কের ৬০০টি পশুপাখির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ পার্কের ভেতরে বসিয়েছেন ১৫টি বিশালাকার কুলার মেশিন। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি ২০টি স্প্রিঙ্কলারের সাহায্যে নিয়মিত জল ছেটানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যা প্রাণীদের শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করছে।
দিনের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে বিশেষ ব্যবস্থা:
সূত্রের খবর, দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত—অর্থাৎ দিনের যখন তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে—তখনই এই কুলার ও স্প্রিঙ্কলারগুলো পূর্ণমাত্রায় চালানো হচ্ছে। সিংহের মতো বড় প্রাণী থেকে শুরু করে বাঘ, লেপার্ড, কুমির, সজারু এবং বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপ ও পাখিরা—প্রত্যেকেই এই বিশেষ ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছে।
কেন এই উদ্যোগ প্রয়োজনীয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাঁচাবন্দি বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে থাকা প্রাণীরা তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়তে পারে। ইন্দ্রোদা নেচার পার্কের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য চিড়িয়াখানা বা নেচার পার্কের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান উষ্ণায়নের এই সময়ে পশুপাখিদের প্রাণ বাঁচাতে এ ধরনের আরও সুসংহত ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তির মাঝে পশুদের প্রতি পার্ক কর্তৃপক্ষের এই দায়িত্ববোধ এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে। মানুষ নিজের আরামের কথা ভাবলেও, মূক প্রাণীদের এই কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসাটা সত্যিই প্রশংসনীয়।