BJP-র ‘তৃণমূলীকরণ’ হচ্ছে না তো জেলায় জেলায়? কড়া অ্যাকশন প্ল্যান গেরুয়া শিবিরের

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দল সামলানো ও শৃঙ্খলা ফেরানোই এখন বিজেপির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলে যোগ দিতে আসা ‘সুযোগসন্ধানী’ ও বিতর্কিতদের আটকাতে কঠোর অবস্থান নিল গেরুয়া শিবির। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সাংগঠনিক ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া।
কেন এই সতর্কতা? বিজেপি সূত্রের খবর, নির্বাচনের পরই অনেকে রাতারাতি বিজেপি তকমা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই ‘তৃণমূলীকরণ’ আটকাতে তৎপর নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং শশী অগ্নিহোত্রীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের ৪৩টি সাংগঠনিক জেলায় গিয়ে নেতাদের সচেতন করার। দলের স্পষ্ট নির্দেশ—অহংকার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং দখলদারির রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না।
কী থাকছে নতুন মডেলে? সংগঠনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি জেলায় তৈরি করা হচ্ছে ১৫ সদস্যের একটি ‘কোর কমিটি’। এই কমিটিতে বিধায়ক, সাংসদ ও রাজ্যস্তরের প্রতিনিধিদের রাখা হবে। তাদের মূল দায়িত্ব হবে:
-
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলে আসা ব্যক্তিদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা।
-
দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলাভঙ্গ বা দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
-
সরকারি কাজে অযথা হস্তক্ষেপ বা প্রোমোটার-সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগ রুখে দেওয়া।
দুর্নীতিমুক্ত শাসনের প্রতিশ্রুতি বিজেপি নেতৃত্বের মতে, বাংলার মানুষ দীর্ঘদিনের ‘চাঁদাবাজির সংস্কৃতি’ ও দুর্নীতি থেকে মুক্তি পেতে তাদের ভোট দিয়েছে। তাই দলের কর্মীদেরও সেই প্রত্যাশা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বা যারা অতীতে দলের কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে, তাদের জন্য বিজেপির দরজা আপাতত চিরতরে বন্ধ।
‘ভালো তৃণমূল’ বিতর্ক ও বর্তমান অবস্থান সম্প্রতি ‘ভালো তৃণমূল’ মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল চললেও, শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কাউকে ভালো বা খারাপের তকমা দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং বাংলার মানুষের দেওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায়কে সম্মান জানানোই এখন তাদের অগ্রাধিকার।
রাজ্যের ৪৩টি সাংগঠনিক জেলায় এই বৈঠক শেষ হওয়ার পর, তৃণমূলের ফেলে আসা ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’ পুরোপুরি মুছে ফেলে সুশাসনের নতুন মডেল উপহার দেওয়াই বিজেপির এখন একমাত্র লক্ষ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।