মৃত্যুও হারাতে পারেনি সুরের জাদুকরকে! সিধু মুসওয়ালার প্রয়াণের চার বছর পরেও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তাঁর গান

আধুনিক পাঞ্জাবি সংগীতের ধারায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সিধু মুসওয়ালা। আজ ২৯ মে, ২০২৬। ঠিক চার বছর আগে আজকের এই দিনেই এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন এই প্রতিভাবান র্যাপার। কিন্তু মৃত্যুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও সিধু মুসওয়ালার জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। বরং তাঁর মৃত্যুর পরেও প্রকাশিত গানগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভিউ কুড়িয়ে চলেছে, যা সংগীত জগতে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
এক অকাল প্রয়াণের আখ্যান ২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবের মানসা জেলার জওহরকে গ্রামে নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে প্রাণ হারান শুভদীপ সিং সিধু, যিনি বিশ্বজুড়ে সিধু মুসওয়ালা নামেই খ্যাত ছিলেন। ২০১৬ সালে কর্মজীবন শুরু করা এই গায়ক খুব অল্প সময়েই সংগীত ও রাজনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর লেখনী ও গায়কী পাঞ্জাবি যুব সমাজের কাছে ছিল বিদ্রোহ ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।
মৃত্যুর পরেও অবিরাম সৃষ্টি সিধু মুসওয়ালার প্রয়াণের পর থেকে এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় আটটি নতুন গান মুক্তি পেয়েছে। সংগীতপ্রেমীদের কাছে এই গানগুলো কেবল অডিও বা ভিডিও নয়, বরং এক প্রিয় শিল্পীর রেখে যাওয়া অমূল্য সম্পদ। তাঁর মৃত্যুর মাসখানেক পরেই মুক্তি পাওয়া ‘এসওয়াইএল’ (SYL) গানটি মুক্তির পরপরই বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। যদিও বিতর্কিত বিষয়বস্তুর কারণে গানটি ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তবুও ইউটিউবের পর্দায় এর জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমেনি।
কেন আজও সিধু অপ্রতিদ্বন্দ্বী? অনেকের মতেই, সিধু মুসওয়ালার গান কেবল বিনোদনের মাধ্যম ছিল না; তাতে ছিল পাঞ্জাবের মাটি, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। প্রথাগত গায়কির বাইরে গিয়ে তাঁর র্যাপ ও নিজস্ব শৈলী তাঁকে করে তুলেছিল অনন্য। আজও যখন তাঁর নতুন কোনো গান মুক্তি পায়, তা নিমেষেই লক্ষ লক্ষ ভিউ অর্জন করে নেয়।
আজ তাঁর মৃত্যুর চতুর্থ বার্ষিকীতে ভক্তরা নতুন করে স্মরণ করছেন সেই শিল্পীকে, যিনি শারীরিক মৃত্যুর পরেও তাঁর সৃজনশীলতার মাধ্যমে আজও অগণিত মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। সিধু মুসওয়ালার এই অকাল প্রয়াণ সংগীত জগতের এক বড় শূন্যতা তৈরি করলেও, তাঁর সুরের ধারা যে চিরসবুজ, তা আজকের ডিজিটাল ভিউই তার প্রমাণ দেয়।