“বিশ্বের সেরা ভারতের ‘মশলা চা’!”-গ্লোবাল ফুড গাইডের তালিকায় মিললো সেরার সেরা মুকুট

চা শুধু একটি পানীয় নয়, ভারতবাসীর কাছে এটি এক অমোঘ আবেগ। আর সেই আবেগের জয়জয়কার এবার পৌঁছে গেল বিশ্বমঞ্চে। জনপ্রিয় গ্লোবাল ফুড গাইড ‘টেস্টঅ্যাটলাস’ (TasteAtlas)-এর সাম্প্রতিক তালিকায় বিশ্বের ১০০টি সেরা চা বা পানীয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে নিল ভারতের ঐতিহ্যবাহী ‘মশলা চা’।

বিশ্বের দরবারে ভারতের জয়যাত্রা ভারতের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য চা-সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে ‘টেস্টঅ্যাটলাস’ তাদের মে মাসের সংস্করণে ভারতের চায়ের এক বিশাল জয়গান গেয়েছে। তালিকায় শুধু মশলা চা-ই নয়, ভারত থেকে স্থান পেয়েছে আরও বেশ কিছু বিখ্যাত চা:

  • মশলা চা: প্রথম (বিশ্বসেরা)

  • দার্জিলিং চা: ষষ্ঠ

  • অসম চা: ১৩তম

  • সুলেমানি চা (কেরল): ৩৯তম

  • কাংড়া চা (হিমাচল প্রদেশ): ৪১তম

  • নুন চা (জম্মু ও কাশ্মীর): ৪৩তম

এই তালিকা যেন ভারতের বৈচিত্র্যের এক নিখুঁত আয়না। দার্জিলিংয়ের সূক্ষ্ম সুবাস থেকে শুরু করে কাশ্মীরের বিখ্যাত নোনতা ‘নুন চা’—প্রত্যেকটিই বিশ্ববাসীর রসনা তৃপ্তিতে জায়গা করে নিয়েছে।

অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিতা এই তালিকায় ভারতের পরেই রয়েছে জাপানের রোস্টেড গ্রিন টি ‘হোজিসা’ (Hojicha) দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত ‘সিলন ব্ল্যাক টি’। এছাড়াও জাপানের ‘সেনচা’ এবং চিনের ‘পু-এর’ চা শীর্ষ পাঁচের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে।

গৌরব বাড়াল দেশীয় চা-বাগানগুলিও চায়ের কাপের স্বীকৃতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুড গাইডটি বিশ্বের আইকনিক চা-বাগান ও ব্র্যান্ডগুলির তালিকাও প্রকাশ করেছে। সেখানেও ভারতের গৌরব উজ্জ্বল। পশ্চিমবঙ্গের কার্শিয়াংয়ের ঐতিহাসিক মকাইবাড়ি (Makaibari) চা-বাগান এবং অসমের ডিব্রুগড়ের হালমারি (Halmari) চা-বাগান তাদের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ও উন্নত মানের জন্য বিশ্বজোড়া প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বাস্তবিকই, রাস্তার ধারের টপরি থেকে আভিজাত্যের রেস্তোরাঁ—সর্বত্রই ‘চায়ে পে চর্চা’ এখন বিশ্বজুড়ে এক স্বীকৃত সংস্কৃতি। আপনি চা প্রেমী হোন বা না হোন, ভারতের এই ক্রমবর্ধমান বিশ্বস্বীকৃতি নিশ্চিতভাবেই প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে গর্বের বিষয়।