ত্বিশা শর্মা রহস্যমৃত্যু: ‘আমি ফেঁসে গেছি!’ শেষ ফোনের রহস্যভেদে মরিয়া CBI

অভিনেত্রী ও মডেল ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর তদন্তে এবার বড়সড় মোড় নিল CBI। দীর্ঘ জল্পনার পর মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে শাশুড়ি তথা প্রাক্তন বিচারক গিরিবালা সিংকে গ্রেফতার করার পর, ভোপালের আদালতে তাঁকে ও স্বামী সমর্থ সিংকে পাঁচ দিনের CBI হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে? উত্তর খুঁজছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

CBI-এর তদন্তের কেন্দ্রে যে ৩টি বড় রহস্য:

  • ২০ লক্ষ টাকার বিতর্ক ও পণ প্রথা: তদন্তে উঠে এসেছে, ত্বিশার ওপর ২০ লক্ষ টাকার শেয়ার নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি বিয়ের সময় ২ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত পণ দাবির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ত্বিশার গর্ভাবস্থা এবং গর্ভপাত নিয়ে শ্বশুরবাড়ির মানসিক নির্যাতনের বিষয়টিও মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

  • ‘আমি ফেঁসে গেছি’—শেষ ফোনের রহস্য: ত্বিশার বাবার বিস্ফোরক দাবি, মৃত্যুর ঠিক আগে তাঁর মেয়ের সাথে শেষ ফোনালাপে ত্বিশা কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, “বাবা, আমি ফেঁসে গেছি।” শোনা গিয়েছিল স্বামী সমর্থ সিংয়ের কণ্ঠস্বরও। এই ফোনালাপের পরেই রহস্যজনকভাবে ফোন কেটে যাওয়ায় খুনের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেখছেন তদন্তকারীরা।

  • আধুনিক ‘টানেল ভিউ’ প্রযুক্তি: ১২ মে রাতের ঘটনাক্রম পুনর্গঠন করতে CBI ব্যবহার করছে অত্যাধুনিক ‘টানেল ভিউ’ (Tunnel View) প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে CCTV ফুটেজ, Wi-Fi লগ, মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন এবং স্মার্ট ডিভাইসের ডেটা বিশ্লেষণ করে মৃত্যুর আগের শেষ কয়েক ঘণ্টার নিখুঁত টাইমলাইন তৈরি করছেন গোয়েন্দারা।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন কীসের? ময়নাতদন্তের পর ত্বিশার শরীরে ভোঁতা বস্তুর আঘাত বা ব্লান্ট ফোর্সের (Blunt Force) যে ইঙ্গিত মিলেছিল, তা আত্মহত্যা না খুন—তা নিয়ে ধন্দে রয়েছেন তদন্তকারীরা। শাশুড়ি ও স্বামীকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

দেশজুড়ে সাড়া ফেলা এই মামলার পরবর্তী মোড় কোন দিকে যায়, তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছে সকলে।