কাগজের নোটের বিদায়! ভারতে আসছে প্লাস্টিকের নোট? জেনে নিন কেন এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে RBI

ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে কি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে চলেছে? কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) খুব শীঘ্রই ভারতে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট চালু করার একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করতে চলেছে। কাগজের নোটের স্থায়িত্ব ও ক্রমবর্ধমান ছাপানোর খরচ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই পরিবর্তনের চিন্তা?
ভারতের মতো বিশাল দেশে নোটের রক্ষণাবেক্ষণ এক বড় চ্যালেঞ্জ। RBI-এর ২০২৫ অর্থবর্ষের রিপোর্ট বলছে:
মুদ্রণ ব্যয়: গত এক বছরে নোট ছাপানোর খরচ ৫,১০১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,৩৭২ কোটি টাকায়।
ক্ষতিগ্রস্ত নোট: গত অর্থবর্ষে প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত বা ছেঁড়া নোট প্রচলন থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে, যার সিংহভাগই ছিল ৫০০ টাকার নোট।
স্থায়িত্ব: কাগজের নোট খুব দ্রুত নষ্ট হয়, কিন্তু পলিমার নোট দীর্ঘস্থায়ী। দীর্ঘমেয়াদে এটি নতুন নোট ছাপানোর বিপুল খরচ বাঁচাবে।
বিশ্বজুড়ে পলিমার নোটের জয়যাত্রা:
প্লাস্টিকের নোট কিন্তু বিশ্ব বাজারে নতুন নয়। ৬০টিরও বেশি দেশ ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তিতে আস্থা রেখেছে।
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮৮ সালে প্রথম দেশ হিসেবে পলিমার নোট চালু করে। বর্তমানে তাদের নোটগুলো বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ ও নিরাপদ বলে গণ্য হয়। এর আয়ু সাধারণ কাগজের নোটের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি (১০-১৫ বছর)।
অন্যান্য দেশ: কানাডা, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোও সফলভাবে পলিমার নোট ব্যবহার করছে। এই নোটগুলো জল ও ধুলোরোধী, তাই আর্দ্র আবহাওয়ায় সহজে নষ্ট হয় না।
পলিমার নোটের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:
১. নিরাপত্তা: স্বচ্ছ জানালা, মাইক্রোপ্রিন্টিং এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে এই নোট জাল করা প্রায় অসম্ভব।
২. স্থায়িত্ব: কাগজের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি সময় এই নোটগুলো সচল থাকে।
৩. পরিচ্ছন্নতা: প্লাস্টিকের হওয়ায় এগুলো সহজে ময়লা হয় না এবং পরিষ্কার রাখা সহজ।
৪. আধুনিক প্রযুক্তি: দেশের বর্তমান আধুনিক এটিএম এবং ক্যাশ-হ্যান্ডলিং মেশিনগুলো সহজেই এই নোট প্রক্রিয়া করতে সক্ষম।
ডিজিটাল পেমেন্টের মাঝেও নগদের চাহিদা:
ডিজিটাল লেনদেন বাড়লেও ভারতে নগদের চাহিদা কমেনি। ১৫ মে পর্যন্ত ভারতে প্রচলনে থাকা মুদ্রার পরিমাণ রেকর্ড ৪২.৮৬ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বিপুল পরিমাণ মুদ্রাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং ছাপানোর বিশাল খরচ কমাতে পলিমার নোট এক কার্যকর সমাধান হতে পারে।
RBI-এর এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি সফল হলে অদূর ভবিষ্যতে আপনার মানিব্যাগেও দেখা মিলতে পারে এই নতুন প্রজন্মের টেকসই ও সুরক্ষিত নোটের।