দেশের বিচার ব্যবস্থায় পাহাড়প্রমাণ জট! ৫ কোটি ৬৪ লক্ষের বেশি বিচারাধীন মামলার পরিসংখ্যান সামনে আসতেই হাহাকার

দেশের বিচার ব্যবস্থায় মামলার পাহাড়প্রমাণ জট এবং বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার পুরনো সমস্যাটি ফের একবার তীব্রভাবে সামনে এল। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল (Arjun Ram Meghwal) জানিয়েছেন যে, বর্তমান দেশজুড়ে সমস্ত স্তরের আদালত মিলিয়ে অমীমাংসিত বা বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ কোটি ৬৪ লক্ষেরও বেশি। এর মধ্যে কেবল দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টেই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ১০ হাজারেরও বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে।
কোন আদালতে মামলার পরিস্থিতি কেমন?
ন্যাশনাল জুডিশিয়াল ডেটা গ্রিড (NJDG)-এর তথ্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের বিচার ব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
সুপ্রিম কোর্ট: শীর্ষ আদালতে বর্তমানে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৯৬ হাজারের বেশি। এর মধ্যে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো— ২৬টি মামলা গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এবং ৫৫৮টি মামলা ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা মামলার সংখ্যা একাই ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
হাইকোর্ট ও অধস্তন আদালত: দেশের ২৫টি উচ্চ আদালতে প্রায় ৮০ হাজার ৬৬০টি মামলা বিগত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো রকম নিষ্পত্তি ছাড়াই নথিবন্দী হয়ে পড়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে শুরু করে আদালতগুলির পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ এবং বিচার ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুততর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ৯ হাজার ৮০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বহু পুরনো মামলা এখনও আদালতের ফাইলেই আটকে রয়েছে।
পাহাড়প্রমাণ মামলার জটের নেপথ্যে মূল কারণগুলি কী?
রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আদালতের বিচারাধীন মামলাগুলির দ্রুত বা সঠিক নিষ্পত্তি করা সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগের নিজস্ব এক্তিয়ার বা ক্ষমতার মধ্যে পড়ে। তবে বিচার প্রক্রিয়ায় এই পাহাড়প্রমাণ মামলার জট তৈরি হওয়ার পেছনে বেশ কিছু জটিল সামাজিক ও আইনি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানত রয়েছে:
মামলাগুলির নিজস্ব আইনি জটিলতা এবং পেঁচালো ধরণ।
ঘটনার প্রকৃতি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ—যেমন আইনজীবী, পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা, মামলার সাক্ষী এবং অভিযোগকারীদের পারস্পরিক সহযোগিতার অভাব।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দেশের বিচার ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নত করতে এবং ফাইল ওয়ার্ক কমিয়ে ডিজিটাইজেশনের ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হলেও, মামলার এই অন্তহীন দীর্ঘসূত্রিতা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে যে এখনও বেশ কিছুটা দীর্ঘ ও কঠিন করে রাখছে, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।