কম তেলে গাড়ির মাইলেজ বেশি পেতে, জেনেনিন ৫টি সেরা গোপন ট্রিকস

দিন দিন যেভাবে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠছে, তাতে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়তে বাধ্য। এই অগ্নিমূল্যের বাজারে এখন শুধু গাড়ি চালালেই হবে না, চালাতে হবে বুদ্ধি খাটিয়ে। অনেকেই মনে করেন, গাড়ির মাইলেজ সম্পূর্ণভাবে গাড়ির ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা একেবারেই ভুল! আপনার গাড়ি চালানোর অভ্যাস, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ছোট কিছু কৌশলের মাধ্যমেই একই পরিমাণ তেলে অনেক বেশি পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব।
মাস শেষে জ্বালানি খরচ একধাক্কায় কমিয়ে আনতে আজই জেনে নিন কম তেলে বেশি মাইলেজ পাওয়ার ৫টি অত্যন্ত কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক ট্রিকস:
১. হুটহাট স্পিড বাড়ানো এবং জোরে ব্রেক করার অভ্যাস বদলান
গাড়ি চালানোর সময় হুট করে গতি বাড়িয়ে ফেলা কিংবা আচমকা কষে ব্রেক ধরা—ইঞ্জিনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই অভ্যাসের কারণে ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হয়, যার ফলে চোখের পলকে প্রচুর জ্বালানি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং সামনে ট্রাফিক বা জ্যাম দেখলে আগেভাগেই ব্রেক নিয়ন্ত্রণ করলে তেলের খরচ অনেকটাই কমে আসে। একটি নির্দিষ্ট ও স্থির গতিতে (Constant Speed) গাড়ি চালালে সবচেয়ে সেরা মাইলেজ পাওয়া যায়।
২. হাইওয়েতে জানালা খুলে নয়, এসি চালিয়ে চলুন!
শহরের ভেতরে কম গতিতে চলার সময় জানালা খোলা রাখলে তেল বাঁচতে পারে। কিন্তু হাইওয়েতে গল্পটা একদম উল্টো! হাইওয়ে বা ফাঁকা রাস্তায় যখন গাড়ির গতি বেশি থাকে, তখন জানালা খোলা রাখলে বাতাসের প্রচণ্ড উল্টো চাপ (Aerodynamic Drag) তৈরি হয়। এই বাধার বিরুদ্ধে গাড়িকে টেনে নিয়ে যেতে ইঞ্জিনকে দ্বিগুণ শক্তি খরচ করতে হয়, ফলে তেলও বেশি পোড়ে। তাই হাইওয়েতে গাড়ির জানালা বন্ধ করে ২৪-২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এসি চালানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ এবং এটি বেশি সাশ্রয়ী।
৩. গাড়িকে ‘চলন্ত গুদাম’ বানাবেন না, অপ্রয়োজনীয় ওজন কমান
গাড়ির ডিকি বা ভেতরের অংশে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জমিয়ে রাখলে গাড়ির সামগ্রিক ওজন অনেক বেড়ে যায়। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, ওজন যত বেশি হবে, গাড়িকে সচল করতে ইঞ্জিনের তত বেশি জ্বালানির প্রয়োজন হবে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ভারী ব্যাগ, ভারী টুলবক্স বা অতিরিক্ত মালামাল গাড়ি থেকে নামিয়ে রাখুন। গাড়ি হালকা থাকলে তেলের খরচও হালকা হবে।
৪. টায়ারের বাতাস ঠিক আছে তো? নিয়মিত পরীক্ষা করুন
চাকার বাতাস কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে টায়ারের ঘর্ষণ বা রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায়। ফলে গাড়িকে টেনে তুলতে ইঞ্জিনকে বেশি তেল পুড়িয়ে বাড়তি শক্তি তৈরি করতে হয়। জ্বালানি সাশ্রয় করতে সপ্তাহে অন্তত একবার সব কটি টায়ারের প্রেশার পরীক্ষা করুন। গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী টায়ারে সঠিক পরিমাণ বাতাস রাখলে গাড়ির পারফরম্যান্স যেমন বাড়ে, তেমনই মাইলেজও চমৎকার পাওয়া যায়।
৫. ফিল্টার ও ইঞ্জিন অয়েল রাখুন একদম চাঙ্গা
একটি গাড়ির ফুসফুস হলো তার ফিল্টার। এয়ার ফিল্টার, এসি ফিল্টার বা ইঞ্জিন অয়েলে ময়লা জমলে গাড়ি ঠিকমতো ‘নিঃশ্বাস’ নিতে পারে না। ফলে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং একই দূরত্ব যেতে গাড়ি অনেক বেশি তেল গিলতে শুরু করে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর পর ফিল্টার পরিষ্কার করুন এবং সঠিক মাইল স্পর্শ করার আগেই ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করে নিন। এতে ইঞ্জিন যেমন দীর্ঘকাল ভালো থাকবে, তেমনই তেলের খরচও থাকবে আপনার হাতের মুঠোয়।
ডেইলিয়ান্ট এডিটরস নোট: সামান্য কিছু দৈনিক অভ্যাস এবং একটুখানি সচেতনতাই পারে মাস শেষে আপনার জ্বালানি খরচের বাজেটে একটা বড়সড় স্বস্তি এনে দিতে। তাই আজ থেকেই বুদ্ধি খাটিয়ে সচেতনভাবে গাড়ি চালান, আর কম তেলেই পাড়ি দিন মাইলের পর মাইল পথ!