নম্বর বিভ্রাটে আতঙ্কিত পড়ুয়ারা! ওএসএম ব্যবস্থার পক্ষে প্রচার চালাতে স্কুলগুলোকে কি চাপ দিচ্ছে সিবিএসই?

দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশের পর থেকেই সিবিএসই (CBSE)-র নতুন ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (OSM) পদ্ধতি ঘিরে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শিক্ষকমহলে প্রবল অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় ত্রুটির অভিযোগ ওঠার পর এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এই বিতর্কিত পদ্ধতিকে বাঁচাতে সিবিএসই-র আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো স্কুল অধ্যক্ষদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘টুলকিট’ বা স্ক্রিপ্ট গছিয়ে দিচ্ছে।

অধ্যক্ষদের কাছে ‘স্ক্রিপ্ট’ পাঠানোর অভিযোগ:
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘অধ্যক্ষদের জন্য উপকরণ’ (Material for Principals) শিরোনামে একটি নথি বিভিন্ন স্কুলের প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে শিক্ষকদের বোর্ডের হয়ে ওএসএম পদ্ধতির স্বপক্ষে বক্তব্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য ভিডিও বার্তাও প্রস্তুত করে দেওয়া হয়েছে। টুইটারে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বেশ কিছু স্কুলের অধ্যক্ষরা ওএসএম-কে ‘ঐতিহাসিক সংস্কার’ বলে প্রচার করছেন, যা নিয়ে অভিভাবক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নাকি বোর্ডের চাপে নির্দেশ পালন?

কেন সমালোচনার মুখে ওএসএম সিস্টেম?
পড়ুয়া ও অভিভাবকদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

অস্পষ্টতা: অনলাইনে আপলোড করা উত্তরপত্রগুলো ঝাপসা এবং অনেক ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ।

তথ্য বিভ্রাট: স্ক্যান করা খাতার সঙ্গে পড়ুয়াদের হাতের লেখার মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

পৃষ্ঠা নিখোঁজ: মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা হারিয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে।

প্রযুক্তিগত অদক্ষতা: মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকরা যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাব ও বারবার প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা জানিয়েছেন।

সিবিএসই ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবস্থান:
বোর্ডের দাবি, মানবিক ত্রুটি কমাতেই এই ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বীকার করেছেন যে, এই পদ্ধতিতে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে বোর্ডের দাবি, কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি (Security breach) হয়নি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সমস্যার প্রতিকারের জন্য বোর্ড কাজ করছে।

বিতর্কের শিকড়:
সমালোচকদের মতে, পর্যাপ্ত পরীক্ষামূলক মহড়া (Pilot Testing) ছাড়াই এই বিশাল প্রক্রিয়া শুরু করার ফলেই এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে স্ক্যানিং সমস্যা হওয়ায় উত্তরপত্র হাতে দেখে মূল্যায়ন করতে বাধ্য হয়েছে বোর্ড, যা মূল উদ্দেশ্য—স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।