পুরানো স্মৃতি ফেরাতে আসছে হোন্ডা! সিভিক, অ্যাকর্ড ও সিআর-ভি কি ফিরছে ভারতের রাস্তায়?

ভারতীয় বাজারে ফের নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বড়সড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে হোন্ডা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষকে লক্ষ্য করে সংস্থাটি ৬টি নতুন গাড়ি আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে মূল ফোকাস থাকবে হাইব্রিড এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV)-এর ওপর। অটোমোবাইল মহলে জোর জল্পনা, একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় তিনটি আইকনিক মডেল—সিভিক (Civic), অ্যাকর্ড (Accord) এবং সিআর-ভি (CR-V) আবারও ভারতীয় রাস্তায় ফিরতে পারে।

ফিরে আসছে আইকনিক মডেলগুলো
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোন্ডা তাদের গ্লোবাল পোর্টফোলিও থেকে এই জনপ্রিয় সেডান ও এসইউভিগুলো ভারতের গ্রাহকদের জন্য পুনরায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে।

হোন্ডা সিভিক হাইব্রিড: এই জনপ্রিয় সেডানটি ফিরতে পারে ২.০-লিটার অ্যাটকিনসন সাইকেল পেট্রোল ইঞ্জিন ও ডুয়াল মোটর হাইব্রিড সিস্টেমের সাথে। যা প্রায় ২০০ বিএইচপি শক্তি এবং ৩১৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করবে।

হোন্ডা অ্যাকর্ড হাইব্রিড: প্রিমিয়াম এই সেডানটি ২০৪ বিএইচপি ক্ষমতা ও ৩৩৫ এনএম টর্ক সম্পন্ন শক্তিশালী ইঞ্জিন নিয়ে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ চমক হলো, মাত্র ৭ সেকেন্ডে এটি ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতি তুলতে সক্ষম।

হোন্ডা সিআর-ভি হাইব্রিড: এসইউভি প্রেমীদের জন্য সিআর-ভি-এর হাইব্রিড মডেলটি এফডব্লিউডি (FWD) এবং এডব্লিউডি (AWD) অপশন নিয়ে ফিরতে পারে, যা পারফরম্যান্সের দিক থেকে টয়োটা বা হুন্ডাইয়ের মতো ব্র্যান্ডগুলোকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাবে।

নতুন পথে হোন্ডা: ইভি ও সিবিইউ রুট
শুধুমাত্র হাইব্রিড নয়, হোন্ডা এখন সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ির দিকেও নজর দিয়েছে। ২০২৭ সালে সংস্থাটি তাদের প্রথম ইভি, ‘হোন্ডা ০ আলফা’ বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে, সিভিক, অ্যাকর্ড বা সিআর-ভি-এর মতো প্রিমিয়াম মডেলগুলো প্রাথমিকভাবে সিবিইউ (CBU – Completely Built Unit) রুটে বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে। এতে গাড়ির দাম কিছুটা বেশি হলেও, গ্রাহকরা আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও ফিচার উপভোগ করতে পারবেন।

কেন এই পরিকল্পনা?
বর্তমানে ভারতে ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের চাহিদাকে মাথায় রেখেই হোন্ডার এই কৌশলগত পরিবর্তন। এর পাশাপাশি এই বছরের দ্বিতীয় ভাগে জনপ্রিয় ‘এলিভেট’ এসইউভি-তে বড় ধরণের আপডেট আসারও সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া খুব শীঘ্রই বাজারে আসছে ‘জেডআর-ভি’ (ZR-V) হাইব্রিড এসইউভি।

সব মিলিয়ে, হোন্ডার এই নতুন পদক্ষেপ ভারতের অটোমোবাইল বাজারে প্রতিযোগিতার পারদ যে অনেকটা বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই বাহুল্য। গাড়িপ্রেমীদের জন্য আগামী মাসগুলো হতে চলেছে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর!