সোলার প্যানেল লাগালেই কি ভর্তুকি মিলবে? ভুল সিস্টেমে বড় লোকসান হতে পারে, জানুন সঠিক উপায়

কেন্দ্রীয় সরকারের জনপ্রিয় ‘পিএম সূর্য ঘর ফ্রি ইলেকট্রিসিটি স্কিম’-এর সুবিধা নিয়ে বাড়িতে সোলার প্যানেল বসাতে চাইছেন অনেকেই। কিন্তু সঠিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকায় ভুল সিস্টেমে বিনিয়োগ করে ৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাজারে মূলত দুই ধরনের সোলার সিস্টেম পাওয়া যায়—অন-গ্রিড এবং অফ-গ্রিড। আপনার জন্য কোনটি লাভজনক, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

কেন অন-গ্রিড সিস্টেমই সেরা?
পিএম সূর্য ঘর যোজনার মূল লক্ষ্য হলো গ্রিড-সংযুক্ত সৌরশক্তি ব্যবহার।

নেট মিটারিং-এর সুবিধা: এই সিস্টেমে কোনো ব্যাটারির প্রয়োজন হয় না। দিনের বেলায় উৎপন্ন অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরকারি গ্রিডে চলে যায় এবং নেট মিটারিং-এর মাধ্যমে আপনার বিদ্যুৎ বিল মাসে শেষে প্রায় শূন্য বা নেগেটিভ হয়ে যায়।

ভর্তুকি: এই প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র অন-গ্রিড সিস্টেম বসানোর জন্যই সরকার ৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেয়।

রক্ষণাবেক্ষণ: এতে ব্যাটারি না থাকায় রক্ষণাবেক্ষণের খরচ নগণ্য এবং প্যানেলগুলো অনায়াসে ২৫ বছর সেবা দেয়। যারা শহরে থাকেন, তাদের জন্য এটিই সবচেয়ে সাশ্রয়ী।

অফ-গ্রিড কেন সরকারি সহায়তার বাইরে?
অফ-গ্রিড সিস্টেমটি পুরোপুরি স্বাধীন এবং এটি বিশাল ব্যাটারির ওপর নির্ভরশীল।

খরচ: ব্যাটারির ব্যবহারের কারণে এর প্রাথমিক খরচ অন-গ্রিডের তুলনায় ২-৩ গুণ বেশি। তাছাড়া ৪-৫ বছর অন্তর ব্যাটারি পরিবর্তনের বড় খরচের ধাক্কা সামলাতে হয়।

ভর্তুকি নেই: অত্যধিক খরচ এবং রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতার কারণে সরকার এই সিস্টেমে কোনো ভর্তুকি দেয় না। এটি মূলত বিদ্যুৎহীন প্রত্যন্ত বা পাহাড়ী অঞ্চলের জন্য উপযোগী, যেখানে দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিং থাকে।

হাইব্রিড সিস্টেম: একটি মাঝামাঝি পথ
আপনার এলাকায় যদি ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা থাকে, কিন্তু আপনি সরকারের ভর্তুকিও নিতে চান, তবে ‘হাইব্রিড সোলার সিস্টেম’ একটি চমৎকার বিকল্প। এটি অন-গ্রিড ও অফ-গ্রিডের সংমিশ্রণ। এতে গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভর্তুকি পাওয়ার সুযোগ থাকে, আবার প্রয়োজনে পাওয়ার ব্যাকআপের জন্য ছোট ব্যাটারিও যোগ করা যায়। তবে মনে রাখবেন, সাধারণ অন-গ্রিড সিস্টেমের তুলনায় এটি কিছুটা ব্যয়বহুল।

সতর্কতা ও সিদ্ধান্ত:
যাঁরা শহর বা এমন অঞ্চলে বাস করেন যেখানে লোডশেডিং কম, তাঁদের জন্য অন-গ্রিড সোলার সিস্টেমই শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। এতে ভর্তুকি পাওয়া যায়, বিদ্যুতের বিল কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে কোনো ঝামেলা থাকে না।

আবেদনপত্র পূরণ করার আগে আপনার বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন এবং এলাকার লোডশেডিং-এর পরিস্থিতি বিবেচনা করে তবেই সঠিক সিস্টেমটি বেছে নিন। ভুল সিদ্ধান্তে বড় অংকের আর্থিক ভর্তুকি হারাতে পারেন আপনি।