ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে কঙ্গো! অলক্ষ্যে ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কি প্রস্তুত বিশ্ব?

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে (DRC) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলা প্রাদুর্ভাব। মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ইতিমধ্যেই ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সরাসরি তদারকি করতে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় পৌঁছেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস।

পরিস্থিতি যখন উদ্বেগজনক:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে ১০০০-এরও বেশি নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ইবোলাজনিত কারণে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে, কারণ এই ভাইরাস দীর্ঘ সময় ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে ছড়িয়েছে।

কী বললেন WHO প্রধান?
কিনশাসায় পৌঁছে টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “এই প্রাদুর্ভাব থামানো সম্ভব।” সংক্রমণ রোধে তিনি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপের বিরোধীতা করে বলেন, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ইবোলার মূল কেন্দ্রস্থল ইতুরিতে গিয়ে তিনি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবেন। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই বুনিয়া বিমানবন্দরে ৪.৬ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে এবং ইউনিসেফ (UNICEF) আরও ১০০ টন সহায়তা পাঠাচ্ছে।

টিকার অপেক্ষায় বিশ্ব:
বর্তমানে কঙ্গোতে ইবোলার যে ‘বুন্দিবুগিও’ (Bundibugyo) স্ট্রেইন ছড়িয়েছে, তার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা টিকা এখনো নেই। তবে আশার আলো দেখিয়েছে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)। সংস্থাটির প্রধান জঁ কাসেয়া জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষের দিকেই বুন্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা এবং ওষুধ হাতে চলে আসবে। তিনি জানান, এই লক্ষ্য পূরণে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত—উভয় ক্ষেত্রেই বিপুল বিনিয়োগ করছেন আফ্রিকার নেতারা।

সংঘাতের মাঝে স্বাস্থ্য সংকট:
কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশটি খনিজ-সমৃদ্ধ হলেও গত তিন দশক ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের সংঘর্ষে বিপর্যস্ত। গত দেড় বছর ধরে সেখানে সংঘাতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর কাছে।