“ছিঁড়বে না, গলবেও না”-কাগজের নোটের বদলে এবার কী আসছে? জেনেনিন RBI-র প্ল্যান

ডিজিটাল লেনদেনের যুগেও দেশজুড়ে নগদ অর্থের চাহিদা কমেনি, বরং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামলাতে এবং মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সাশ্রয় করতে এবার বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। খুব শীঘ্রই ভারতে কাগজের নোটের পরিবর্তে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালু হওয়ার জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কেন পলিমার নোটের ওপর জোর দিচ্ছে আরবিআই? রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক বোর্ড মিটিংগুলোতে পলিমার নোট চালুর প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কেন এই প্রযুক্তি কাগজের নোটের থেকে শ্রেয়, তার বেশ কিছু কারণ উঠে এসেছে:

  • স্থায়িত্ব: প্লাস্টিক বা পলিমার নোট সহজেই ছিঁড়ে যায় না, জলে ভিজলেও নষ্ট হওয়ার ভয় নেই এবং তা অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী।

  • সাশ্রয়ী: যদিও প্রযুক্তিটি নতুন, দীর্ঘমেয়াদে এই নোট তৈরি করা কাগজের নোটের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী।

  • এটিএম সামঞ্জস্য: আধুনিক এটিএম মেশিনগুলোতেও এই নোট অনায়াসেই ব্যবহার করা সম্ভব।

  • নিরাপত্তা: পলিমার নোট নকল করা তুলনামূলকভাবে কঠিন, যা জালনোটের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে।

পাইলট প্রজেক্টের পথে কেন্দ্র: সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে আরবিআই শীঘ্রই একটি পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করতে চলেছে। এই প্রজেক্টের সাফল্য ও চ্যালেঞ্জগুলো খতিয়ে দেখার পরই গোটা দেশে এই নোট প্রচলনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন এই পরিবর্তন জরুরি? আরবিআই-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নোট ছাপানোর খরচ প্রতি বছর বেড়েই চলেছে। ২০২৫ অর্থবর্ষে এই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, গত এক বছরে প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন ময়লা বা ছেঁড়া নোট বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় ১২.৩ শতাংশ বেশি। ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও মানুষের মধ্যে নগদ অর্থের চাহিদা যে রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে—তা ৪২.৮৬ ট্রিলিয়ন টাকার প্রচলিত মুদ্রা থেকেই স্পষ্ট।

মুদ্রার এই ব্যাপক সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমাতে পলিমার নোটই হতে পারে আধুনিক ভারতের সেরা সমাধান। এখন অপেক্ষা শুধু পাইলট প্রজেক্টের ঘোষণার, যা ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায় যোগ করতে পারে।