নোটিস পিরিয়ড না দিলে কি জেলে যেতে হবে? চাকরি ছাড়ার আগে জানুন আইন কী বলছে?

নতুন বা আরও ভালো সুযোগের খোঁজে বর্তমান সংস্থা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যে কোনো চাকুরিজীবীর কেরিয়ারের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পরই যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়, তা হলো ‘নোটিস পিরিয়ড’। ৩০, ৬০ নাকি ৯০ দিন—নোটিস পিরিয়ড সম্পূর্ণ করা কি আইনিভাবে বাধ্যতামূলক? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা প্রতিটি কর্মীর জন্য জরুরি।

আইন কী বলছে? ভারতে প্রতিটি কর্মীর জন্য অভিন্ন কোনো নোটিস পিরিয়ড আইন নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনার নিয়োগপত্র বা এমপ্লয়মেন্ট কন্ট্র্যাক্টের ওপর। অফার লেটারে যে শর্তাবলীতে আপনি স্বাক্ষর করেছেন, সেই অনুযায়ীই আপনাকে কাজ করতে হবে। তবে মনে রাখবেন, নোটিস পিরিয়ড পূরণ না করা কোনো ‘ফৌজদারি অপরাধ’ (Criminal Offence) নয়। এটি কেবল একটি ‘চুক্তিভঙ্গ’ বা সিভিল ম্যাটার। ফলে, এর জন্য জেলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

‘নোটিস পে’ ও আইনি ভিত্তি: আইন অনুযায়ী, কোনো সংস্থাই কোনো কর্মীকে জোর করে আটকে রেখে কাজ করাতে পারে না।

  • স্পেসিফিক রিলিফ অ্যাক্ট, ১৯৬৩: এই আইনের ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত পরিষেবার চুক্তি জোর করে কার্যকর করা যায় না।

  • ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট, ১৮৭২: চুক্তিভঙ্গ করলে সংস্থা কেবল আপনার থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা ‘নোটিস পে’ দাবি করতে পারে। অধিকাংশ সংস্থা নোটিস পিরিয়ড সম্পূর্ণ করতে না পারলে ওই সময়ের সমতুল্য বেতন কেটে নেওয়ার সুযোগ দেয়।

কখন অবিলম্বে চাকরি ছাড়া যায়? আইন সবসময় কর্মীর সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে আপনি নোটিস পিরিয়ড সম্পূর্ণ না করেও অব্যাহতি পেতে পারেন: ১. সংস্থা দীর্ঘ সময় ধরে বেতন আটকে রাখলে (কোড অন ওয়েজেস, ২০১৯-এর ১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী)। ২. অফিসের কর্মপরিবেশ অত্যন্ত বিষাক্ত (Toxic) হলে। ৩. কর্মীর ওপর মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন চললে।

বেতন ও অভিজ্ঞতার শংসাপত্র (Experience Letter): চাকরি ছাড়ার সময় সবথেকে বড় ভয় থাকে বকেয়া বেতন ও অভিজ্ঞতার শংসাপত্র আটকে যাওয়া নিয়ে। মনে রাখবেন:

  • আপনার পরিশ্রমের অর্জিত বেতন আটকে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংস্থা আপনার বকেয়া মিটিয়ে দিতে বাধ্য।

  • চুক্তি অনুযায়ী নোটিস পিরিয়ড পূরণ না করলে চূড়ান্ত পাওনা থেকে ‘নোটিস পে’ কাটতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ বেতন আটকে রাখা আইনত দণ্ডনীয়।

  • কোনো অজুহাতেই কোম্পানি আপনার ‘এক্সপেরিয়েন্স লেটার’ আটকে রাখতে পারে না।

পরামর্শ: চাকরি ছাড়ার পরিকল্পনা থাকলে প্রথমেই আপনার নিয়োগপত্রটি খুঁটিয়ে পড়ুন। পেশাদার সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া সর্বদা শ্রেয়। কারণ, নোটিস পিরিয়ড আইনত জেলযোগ্য না হলেও, চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতি বা ভবিষ্যতের রেফারেন্সে প্রভাব পড়তে পারে। তাই সবসময় সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন।