খুশির খবর গাড়ি চালকদের জন্য! পেট্রোল পাম্পে আসছে নতুন জ্বালানি, পছন্দমতো বেছে নেওয়ার সুযোগ

পেট্রোল পাম্পে গিয়ে এবার গ্রাহকরা নিজেদের গাড়ির ধরণ অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন বিভিন্ন ধরনের ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল। আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি বাস্তবায়নে এই বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত সরকার।
কী কী বিকল্প থাকছে?
আগামী দিনে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সাধারণ পেট্রোলের পাশাপাশি E20, E22, E25 এবং E30-এর মতো ব্র্যান্ডের জ্বালানি পাওয়া যাবে। বর্তমান বাজারে ই২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত) পেট্রোল সহজলভ্য হলেও, ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে নতুন এই বিকল্পগুলো বাজারে আনার প্রস্তুতি জোরদার করেছে সরকার।
গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা ও সুবিধা
নতুন এই ব্যবস্থার ফলে পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রতিটি জ্বালানির জন্য থাকবে আলাদা লেবেলিং। ডিসপেনসার মেশিনে ইথানলের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে, যাতে গ্রাহকরা দ্বিধাহীনভাবে তাদের গাড়ির উপযোগী জ্বালানি বেছে নিতে পারেন। এর জন্য তেল সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, যেমন—আলাদা স্টোরেজ ট্যাঙ্ক ও উন্নত মিশ্রণ ব্যবস্থা (Blending System) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি এই উদ্যোগে শামিল হয়েছে ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং জিও-বিপি, নায়ারা এনার্জি ও শেলের মতো সংস্থাগুলো।
কেন এই উদ্যোগ?
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল ভোক্তা। অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মোকাবিলায় ইথানল মিশ্রণ ভারতের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী:
২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইথানল মিশ্রণের ফলে দেশের সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা।
একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধেও মিলছে সুফল।
মাইলেজ ও ইঞ্জিন নিয়ে উদ্বেগ: কী বলছে সরকার?
অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে, উচ্চ মাত্রার ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ বা ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না? এই প্রসঙ্গে সরকারের দাবি, ই২০-এর মতো জ্বালানি ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বা ‘পিকআপ’ বরং বাড়ায় এবং মাইলেজের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রাজিলের মডেল অনুসরণ করে ভারতও অদূর ভবিষ্যতে গ্রাহকদের চাহিদানুযায়ী জ্বালানির বহুমুখী বিকল্প তৈরি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।