জাপানে প্রত্যাখ্যাত, কিন্তু সিঙ্গাপুরে রেকর্ড বিক্রি! ভারতীয় আমের জাদুতে মজেছে বিশ্ব

ফলের রাজা আম, আর সেই আমে ভারতের জুড়ি মেলা ভার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় আম রপ্তানি নিয়ে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা গেল। জাপানের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ বিভাগ প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভারতীয় আমের একটি চালান আটকে দিলেও, সিঙ্গাপুরের বাজারে সেই আমই এখন তুমুল জনপ্রিয়। ভারতীয় হাই কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের সুপারমার্কেটগুলোতে ভারতীয় আম আসতেই তা মুহূর্তের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে যেভাবে চলছে আম-উন্মাদনা
জাপানে প্রত্যাখ্যাত হওয়া সেই উৎকৃষ্ট মানের আমই এখন সিঙ্গাপুরের বাজারে রাজত্ব করছে। কেশর, আলফনসো, ল্যাংড়া থেকে শুরু করে বাণগনপল্লী—সব জাতেরই ব্যাপক চাহিদা সেখানে। সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশন তাদের এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে এই সাফল্যের কথা জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছে। সুপারমার্কেটের তাকগুলো কার্যত কয়েক মিনিটের মধ্যেই খালি হয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় আমের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই ইঙ্গিত দেয়।

যেখানে ভারতের আমের জয়জয়কার
শুধু সিঙ্গাপুর নয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ—সর্বত্রই ভারতীয় আমের কদর আকাশছোঁয়া। অ্যাপেডা (APEDA)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

সংযুক্ত আরব আমিরাত: ২০২৪ সালে প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা মূল্যের ১২,৮৯৭ মেট্রিক টনেরও বেশি আম রপ্তানি করেছে ভারত।

অন্যান্য দেশ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কাতার ও কুয়েতের বাজারেও ভারতীয় আম রপ্তানির আধিপত্য বজায় রয়েছে।

রেকর্ড উৎপাদনে কৃষকদের মুখে হাসি
পিআইবি (PIB)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ভারতে প্রায় ২২৮.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্বসেরা। ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, বিহার, কর্ণাটক, গুজরাট এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে উৎপাদিত আলফনসো, মল্লিকা, তোতাপুরি ও সিন্ধুরার মতো জাতগুলো এখন কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে। বাম্পার ফলন এবং বিদেশে চাহিদা বাড়ায় কৃষকরা যেমন ভালো দাম পাচ্ছেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হচ্ছে।

বাণিজ্যিক বিশ্বে একটি বাজার সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও ভারতীয় আমের যে গুণমান, তাতে বিশ্বের নতুন নতুন প্রান্তে যে তাদের চাহিদা বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। বিশ্বমঞ্চে ভারতের এই ‘আম-কূটনীতি’ এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।