যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির পথে ভারত! আকাশযুদ্ধে বিপ্লব ঘটাতে ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াচ্ছে ডিআরডিও

ভারতের আকাশযুদ্ধের সক্ষমতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অস্ত্র’ (Astra) ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-র এই উদ্যোগে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এবার বড় ভূমিকা পালন করবে বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাত।

কেন এই ব্যাপক উৎপাদনের সিদ্ধান্ত?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আধুনিক যুদ্ধে কেবল যুদ্ধবিমান থাকলেই হবে না, প্রয়োজন বিপুল সংখ্যক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের নিরন্তর জোগান। তাই ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL)-এর পাশাপাশি একটি বৃহৎ শিল্প নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্ভব হয়।

‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব:
ভারতের প্রথম দেশীয় ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল’ (BVRAAM) হিসেবে অস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্রের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:

অভাবনীয় গতি: এটি শব্দের গতির চেয়ে সাড়ে ৪ গুণ বা প্রায় ম্যাক ৪.৫ গতিতে ছুটতে সক্ষম।

বিশাল পাল্লা: অ্যাস্ট্রা এমকে১-এর রেঞ্জ ১১০ কিলোমিটার এবং নতুন সংস্করণের এমকে২-এর রেঞ্জ ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

নিখুঁত আক্রমণ: এতে রয়েছে অত্যাধুনিক সিকার প্রযুক্তি এবং ডুয়াল-পালস রকেট মোটর, যা তীব্র ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মধ্যেও নির্ভুল লক্ষ্যভেদ করতে পারে।

ব্যবহার: বর্তমানে ভারতের এসইউ-৩০এমকেআই এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজাস যুদ্ধবিমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য:
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু ভারতের আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা নীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং বিশ্ববাজারে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদাও বাড়াবে। ব্যাপক উৎপাদনের ফলে একদিকে যেমন ভারতীয় বিমান বাহিনীর নিজস্ব মজুত বৃদ্ধি পাবে, তেমনি ভবিষ্যতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোতে অস্ত্রা ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানির রাস্তাও প্রশস্ত হবে।

ভারতের এই উদ্যোগ আধুনিক আকাশযুদ্ধে দেশের সুরক্ষাকে আরও এক ধাপ সুরক্ষিত করল বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।