বিশ্বের প্রতি ১৩ দেশের একটিতে হামলার হুমকি দিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প, আতঙ্কে কাঁপছে ১৫ দেশ

নির্বাচনি প্রচারে নিজেকে ‘যুদ্ধবিরোধী’ দাবি করে বিরোধীদের ‘যুদ্ধবাজ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে বসার পর তার কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। একের পর এক দেশকে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া এবং বাস্তবে আক্রমণ চালিয়ে ইতিমধ্যে এক বিস্ময়কর তালিকা তৈরি করেছেন তিনি।
এই তালিকায় নতুন সংযোজন হলো মার্কিন বন্ধুভাবাপন্ন দেশ ওমান। গত বুধবার (২৭ মে) হোয়াইট হাউজে মন্ত্রিসভার একটি জরুরি বৈঠকে ওমানকে সরাসরি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছেন ট্রাম্প।
ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ আকস্মিক হুমকি
হোয়াইট হাউজের বৈঠকে ট্রাম্প অত্যন্ত আকস্মিকভাবে বলেন, ইরানকে সহযোগিতা করে ওমান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপরও সামরিক হামলা চালানো হবে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন:
“ওমানকে সবার মতো করেই আচরণ করতে হবে, অন্যথায় আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে। তারা বিষয়টি বোঝে এবং তারা ঠিক হয়ে যাবে।”
কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা কূটনৈতিক আলোচনা ছাড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলকে স্তম্ভিত করেছে।
ট্রাম্পের নিশানায় বিশ্বের ১৫ দেশ!
মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান ও বিগত মেয়াদের হিসাব মেলালে দেখা যায়, ওমানসহ বিশ্বের অন্তত ১৫টি দেশে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হামলা চালিয়েছেন কিংবা হামলার হুমকি দিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মধ্যে প্রতি ১৩টি দেশের একটি এখন ট্রাম্পের নিশানায় রয়েছে।
জনসংখ্যার বিচারে এই হুমকির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট। এই ১৫টি দেশের মোট জনসংখ্যা হিসাব করলে দেখা যায়, বিশ্বের প্রতি ১১ জন মানুষের মধ্যে একজন বর্তমানে ট্রাম্পের সামরিক আগ্রাসনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা—বিশ্বের চার মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে তার এই হুমকির জাল।
ট্রাম্পের ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ বা পাগলাটে নীতি
চলতি মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং ইয়েমেনে সরাসরি বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর বাইরে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালান বিরোধী অভিযানের নামে ৬০টিরও বেশি নৌযানে হামলা চালিয়ে প্রায় ১৯0 জনকে হত্যা করা হয়েছে।
পাশাপাশি কানাডা, কলম্বিয়া, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড (ডেনমার্কের অংশ), মেক্সিকো, পানামা এবং ওমানকে সামরিক হামলার তালিকায় রেখেছে ওয়াশিংটন। কেবল চলতি বছরই ইরান ও ভেনিজুয়েলা—এই দুটি দেশে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী এবং কিউবা রয়েছে তাদের পরবর্তী সম্ভাব্য তালিকায়।
বিশ্লেষকরা কী বলছেন? আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প মূলত কূটনীতিতে তার বহুল পরিচিত ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ (Madman Theory) বা পাগলাটে নীতি ব্যবহার করছেন। নিজেকে অননুমেয় ও চরম বিপজ্জনক হিসেবে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করে প্রতিপক্ষকে নিজের শর্ত মানতে বাধ্য করাই তার মূল লক্ষ্য। তবে ট্রাম্পের এই অতি-আগ্রাসী অবস্থান ও ‘যুদ্ধংদেহী’ মনোভাব বিশ্বশান্তির জন্য এক বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: সিএনএন