দল ছাড়ার হিড়িক! এবার জাতীয় মুখপাত্র পদ থেকে ইস্তফা শান্তনু সেনের, মমতাকে বিস্ফোরক চিঠি

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই দলের অন্দরে ভাঙনের সুর আরও তীব্র হলো। এবার তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দলের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। সরাসরি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
কী লেখা আছে ইস্তফাপত্রে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে শান্তনু সেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতিকে সমর্থন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন:
আর জি কর ও অভয়া কাণ্ড: এই নারকীয় ঘটনার পর জনমানসে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা তিনি উপেক্ষা করতে পারছেন না।
চাকরি বিক্রি ও দুর্নীতি: পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত দলটিকে সাধারণ মানুষ যে প্রত্যাখ্যান করেছেন, সেই জনরায়কে তিনি মাথা পেতে নিচ্ছেন।
মুখপাত্র হিসেবে সীমাবদ্ধতা: দলের নীতি বা দুর্নীতিকে বারবার ‘ডিফেন্ড’ করতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে যে বিরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, তাতে তাঁর ‘মন আর সায় দিচ্ছে না’।
শান্তনু সেনের বিস্ফোরক মন্তব্য:
ইস্তফার পর শান্তনু সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “দল যখন যা দায়িত্ব দিয়েছে, নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। কিন্তু রাজনীতি তো মানুষের জন্য। ২০২৬-এর ৪ মে মানুষ চাকরি চুরি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, সেই রায়কে সম্মান জানিয়ে আমি হার স্বীকার করছি। দুর্নীতিকে ডিফেন্ড করার কাজ আর চালিয়ে যেতে পারছি না।”
দলের সঙ্গে দূরত্ব ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, আর জি কর কাণ্ডের সময় থেকেই শান্তনু সেন দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। সেই সময় তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। যদিও নির্বাচনের আগে সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়, তবে নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছিল। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তীর মতো নেতাদের পর শান্তনু সেনের এই ইস্তফা তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এই বিপর্যয়ের পর শান্তনু সেনের এই পদক্ষেপ তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।