স্বাস্থ্যসাথী নাকি আয়ুষ্মান ভারত? দুই প্রকল্পের মূল পার্থক্য কোথায়? জেনে নিন বিশদে

পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের পর এবার রাজ্যজুড়ে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই প্রকল্পেই বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি থাকলেও, কার্যকারিতার দিক থেকে এই দুই স্কিমের পার্থক্য নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিজেপি বিধায়ক তথা চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি এই দুই প্রকল্পের তুলনামূলক সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
আয়ুষ্মান ভারত কেন বেশি কার্যকর?
ডঃ মুখোপাধ্যায়ের মতে, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মূল সুবিধাগুলি হলো:
দেশজুড়ে পরিষেবা: স্বাস্থ্যসাথী মূলত রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড থাকলে ভারতের যেকোনো প্রান্তের স্বীকৃত হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যায়।
বিশাল কভারেজ: হাসপাতালে ভর্তির ১০ দিন আগের পরীক্ষা থেকে শুরু করে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার ৯০ দিন পর পর্যন্ত সমস্ত খরচ (ওষুধ, অ্যাম্বুল্যান্স, ফিজিওথেরাপি) এই কার্ডে মেলে।
জটিল রোগের চিকিৎসা: স্বাস্থ্যসাথীতে যেসব চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের সুবিধা পাওয়া যেত না (যেমন- অ্যাপেনডিক্স, গল ব্লাডার স্টোন, প্রসূতি মায়ের চিকিৎসা, হাঁটু রিপ্লেসমেন্ট, হার্নিয়া, হাইড্রোসিল বা ছানি অপারেশন), আয়ুষ্মান ভারতে সেসবের পূর্ণ কভারেজ পাওয়া যাবে।
হাসপাতালের রেট ও স্বচ্ছতা: এই প্রকল্পে সরকারি রেট ধার্য করা থাকে, ফলে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে রোগীর কোনো সমস্যা হয় না। এছাড়া আইসিইউ (ICU), ল্যাব টেস্ট ও মেডিকেল ইমপ্ল্যান্টের খরচও সরকার বহন করে।
কী কী চিকিৎসা মিলবে আয়ুষ্মান ভারতে?
আয়ুষ্মান ভারতের আওতাভুক্ত প্রধান চিকিৎসাগুলি হলো:
কার্ডিওলজি: ওপেন হার্ট সার্জারি, পেসমেকার বসানো, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি।
অঙ্কোলজি: ক্যানসারের অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন।
নিউরোসার্জারি: মস্তিষ্কের ও স্পাইন সার্জারি।
নেফ্রোলজি: কিডনি প্রতিস্থাপন ও নিয়মিত ডায়ালিসিস।
অর্থোপেডিক: জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট ও ফ্র্যাকচারের অস্ত্রোপচার।
অন্যান্য: কানের সার্জারি, বার্ন বা পোড়া রোগীর চিকিৎসা এবং প্রসূতি সংক্রান্ত জটিল অস্ত্রোপচার।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক:
ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের মতে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হার্টের স্টেন্ট বসানোর মতো কিছু নির্দিষ্ট চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল তৎকালীন সরকারের একটি রাজনৈতিক কৌশল। তবে সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির জন্য আয়ুষ্মান ভারতের মতো একটি সর্বজনীন ও বিস্তৃত প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন।