হার্টেও হয় ক্যানসার! ১০ লাখে ১ জনের হয়, গ্যাস ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন না তো?

ক্যানসার বললেই আমাদের মনে প্রথমে ফুসফুস, লিভার বা ব্রেস্টের কথা আসে। কিন্তু হৃদপিণ্ড বা হার্টেও যে ক্যানসার হতে পারে, তা অনেকেরই অজানা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি অত্যন্ত বিরল—প্রায় ১০ লাখে ১ জনের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হার্টের ক্যানসারের লক্ষণগুলোকে আমরা সাধারণ গ্যাস বা অ্যাসিডিটি ভেবে এড়িয়ে যাই, যা পরে বিপদ ডেকে আনে। Asianetnews Bangla-এর এই প্রতিবেদনে জানুন হার্ট ক্যানসারের ঝুঁকি ও সতর্কবার্তা।
হার্ট টিউমার: কতটা ভয়ানক?
হার্টের টিউমার সাধারণত দুই প্রকার—
বিনাইন বা সাধারণ টিউমার (৭৫%): এদের মধ্যে ‘মাইক্সোমা’ সবচেয়ে কমন। এটি সাধারণত হার্টের লেফট অ্যাট্রিয়ামে হয়। ক্যানসার না হলেও, আয়তনে বড় হয়ে এটি রক্ত চলাচল আটকে দিতে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
ম্যালিগন্যান্ট টিউমার (২৫%): এর ৯৫ শতাংশই হলো ‘সারকোমা’, যা অত্যন্ত আগ্রাসী এবং দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
৭টি লক্ষণ, যা হার্টের ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে:
হার্ট ক্যানসারের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ নেই, তবে টিউমারের অবস্থান ও সাইজ অনুযায়ী শরীর কিছু সংকেত দেয়:
১. শ্বাসকষ্ট: অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়া বা শুয়ে থাকলে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
২. বুকের ব্যথা: হার্ট অ্যাটাকের মতো তীব্র না হলেও, বুকে এক ধরণের ভোঁতা ব্যথা অনুভব করা।
৩. প্যালপিটেশন: হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়া বা পালস অনিয়মিত হওয়া।
৪. শরীরে ফোলাভাব: পা বা পেট ফুলে যাওয়া (রাইট সাইড হার্ট ফেইলিওরের লক্ষণ)।
৫. জেনারেল সিম্পটমস: অকারণে ওজন কমে যাওয়া, রাতের বেলা ঘাম হওয়া বা জ্বর।
৬. অজ্ঞান হওয়া: মাইক্সোমা থেকে ক্লট ব্রেইনে গেলে হঠাৎ স্ট্রোক বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি।
৭. কাশির সাথে রক্ত: ফুসফুসে চাপ পড়লে এমনটা হতে পারে।
কারা ঝুঁকিতে?
জেনেটিক কারণ: ‘কার্নি কমপ্লেক্স’ (Carney Complex) থাকলে মাইক্সোমার ঝুঁকি ১০ গুণ বেশি।
রেডিয়েশন: ছোটবেলায় বুকের অংশে রেডিয়েশন থেরাপি নিলে ভবিষ্যতে সারকোমার ঝুঁকি থাকে।
দুর্বল ইমিউনিটি: এইচআইভি (HIV) আক্রান্ত বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ গ্রহণকারীদের ঝুঁকি বেশি।
চিকিৎসা ও সতর্কতা:
প্রাথমিক পর্যায়ে ইকোকার্ডিওগ্রাম (Echo) টেস্টের মাধ্যমেই হার্টের ভেতরে টিউমার শনাক্ত করা সম্ভব। এরপর এমআরআই, সিটি স্ক্যান বা বায়োপসির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়। বিনাইন মাইক্সোমার ক্ষেত্রে সার্জারি করে টিউমার বাদ দিলে ৯৫% রোগী সেরে ওঠেন। তবে সারকোমার ক্ষেত্রে সার্জারি, কেমো ও রেডিয়েশনের প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ:
শ্বাসকষ্ট মানেই গ্যাস বা বুক ধড়ফড় মানেই সাধারণ অ্যাংজাইটি নয়। যদি এই লক্ষণগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয় এবং সাধারণ ওষুধে কাজ না হয়, তবে দেরি না করে অবশ্যই কার্ডিওলজিস্টের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনবোধে ইকো টেস্ট করিয়ে নিন। সচেতনতাই হার্ট ক্যানসারের মতো বিরল ও জটিল রোগ থেকে মুক্তির সেরা উপায়।