নাগরিকত্ব নির্ধারণের অধিকার নেই কমিশনের! সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অস্বস্তিতে কেন্দ্র ও রাজ্য

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই কাউকে ‘বিদেশি’ তকমা দেওয়া যাবে না। বিহারের এসআইআর (SIR) বা বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া নিয়ে মামলার শুনানিতে এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। এই রায়ের ফলে ভারতের নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ:
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের কাজ করতে পারে, কিন্তু কে ভারতের নাগরিক আর কে নন—সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি অধিকার তাদের নেই। নাগরিকত্ব নির্ধারণের দায়িত্ব কেবল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, যাঁদের নাম ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের তথ্য আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন মেনেই এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রকল্পের সুবিধা কি বন্ধ হবে?
এই রায়ের পরই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিতর্কটি মূলত রাজ্য সরকারের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে—যেখানে বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া বা ট্রাইবুনালে আবেদন করা ব্যক্তিদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এই সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর অভিযোগ, বিহার ও বাংলায় তাড়াহুড়ো করে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, যার ফলে বহু প্রকৃত নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
কংগ্রেস নেতা ও বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভির মতে, সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করে দিয়েছে যে কমিশনের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষমতা নেই। অথচ সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, যদি এই সংশোধনী প্রক্রিয়া ভোটের আগেই সঠিকভাবে সম্পন্ন হতো, তবে বহু আসনের ভোটের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জয়ের ব্যবধানের চেয়ে এই বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি, যা এই বিতর্কের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ কী?
আদালত জানিয়েছে, আসন্ন লোকসভা বা বিধানসভা—যে নির্বাচনই আসুক না কেন, তার আগেই বাদ পড়া ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে পুনরায় নাগরিকত্ব প্রমাণ করে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন।
নাগরিকত্বের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভারতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।