“চার্জ দিতে হবে ফুটবলকে!”-২০২৬ বিশ্বকাপের বলের প্রযুক্তিতে চমকে গেলেন ফুটবলপ্রেমীরা

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই বল নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল থাকে তুঙ্গে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের বলটি সব হিসেব উল্টে দিয়েছে। প্রচলিত ফুটবল বা হাওয়া ভরা বলের যুগ পেছনে ফেলে এবার মাঠে নামছে ‘স্মার্ট বল’—যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রিওন্ডা’ (Trioanda)। এটি শুধুমাত্র একটি ফুটবল নয়, বরং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক বিস্ময়।
কেন এই বল আলাদা?
-
চার্জিং সিস্টেম: সাধারণ ফুটবলের মতো এতে শুধু হাওয়া ভরলেই চলে না, এই বলকে ব্যবহার করতে হয় রিচার্জ করে। বলের ভেতরে থাকা রিচার্জেবল ব্যাটারি একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে প্রায় ৬ ঘণ্টা অনায়াসে চলতে পারে, যা একটি পুরো ম্যাচ, অতিরিক্ত সময় ও পেনাল্টি শুটআউট সামলানোর জন্য যথেষ্ট।
-
মোশন সেন্সর চিপ: বলের ভেতরে প্যানেলের মধ্যে ১৪ গ্রাম ওজনের একটি উচ্চ-নির্ভুল ৫০০ হার্জ (Hz) মোশন সেন্সর চিপ বসানো আছে। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
-
রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং: বলের প্রতিটি স্পর্শ, গতি, ঘূর্ণন এবং গতিপথ এটি রিয়েল টাইমে ট্র্যাক করতে পারে। এই সেন্সর এবং স্টেডিয়ামের ক্যামেরা সিস্টেমের সমন্বয়ে তৈরি হবে উন্নত ‘থ্রি-ডি ট্র্যাকিং’, যা ভিএআর (VAR)-এর মাধ্যমে অফসাইড, হ্যান্ডবল বা গোললাইন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রেফারির জন্য অত্যন্ত সহজ করবে।
🚨 BALÓN REVOLUCIONARIO 😮💨
➡️ La pelota TRIONDA ⚽️🏆 será el balón con el que se jugará el Mundial 2026. El mismo tendrá un chip que entrega datos de todo tipo, y que requiere ser cargado🔋 previo a los encuentros.#MundialEcuagol2026
💛 Presentado por @BancoPichincha pic.twitter.com/d0nhtqhBw5
— Ecuagol (@ECUAGOL) May 21, 2026
ডিজাইন ও প্রতীকী গুরুত্ব: ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ—কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মান জানাতে বলটির নকশায় লাল, সবুজ ও নীল রঙের চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। ডিজাইনে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারার প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। বলটির নাম ‘ট্রিওন্ডা’ নেওয়া হয়েছে তিনটি ঢেউ থেকে, যা তিনটি আয়োজক দেশের মেলবন্ধনকে ফুটিয়ে তোলে।
দাম ও সংগ্রহ: বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দামি অফিসিয়াল ফুটবল হতে যাচ্ছে এই ‘ট্রিওন্ডা’। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর তথ্য অনুযায়ী, বলটির দাম প্রায় ১৭৫ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬,৫০০ টাকার সমান। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এটি সংগ্রহে রাখা বেশ ব্যয়বহুল হলেও, প্রযুক্তির নিরিখে এটি নিশ্চিতভাবেই এক অনন্য সংযোজন।
বিশ্বকাপের মাঠে এই বল কতটা নিখুঁতভাবে খেলা পরিচালনা করতে সাহায্য করে, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা।