বিহারের রাজনীতিতে ‘পারিবারিক রাজ’! বিধান পরিষদ নির্বাচনে নীতীশ থেকে চিরাগ—কারা লড়ছেন বাজি?

বিহারের বিধান পরিষদ নির্বাচন আসন্ন, আর তার সঙ্গেই সামনে এল বিহারের রাজনীতির এক চিরচেনা কিন্তু বিতর্কিত ছবি—‘স্বজনপ্রীতি’। ১০টি আসনের এই লড়াই এখন রাজনৈতিক নীতি বা জনসেবার চেয়ে ‘রাজনৈতিক উত্তরাধিকার’ নির্ধারণের মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এনডিএ হোক বা মহাজোট, উভয় শিবিরেই টিকিট বণ্টনের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে পারিবারিক পরিচিতি।
কারা থাকছেন আলোচনার কেন্দ্রে?
-
নিশান্ত কুমার (জেডিইউ): মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারের নাম বিধান পরিষদের প্রার্থী হিসেবে জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, তিনি নীতীশ কুমারের ছেড়ে দেওয়া আসনটি ছাড়াও একটি নতুন মেয়াদের আসনের জন্য লড়তে পারেন।
-
দীপক প্রকাশ (আরএলএম): উপেন্দ্র কুশওয়াহার ছেলে দীপক প্রকাশকেও এবার বিধান পরিষদে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। যদিও তিনি বর্তমানে মন্ত্রী, তবুও কোনো সভার সদস্য নন। পিতারা চাইছেন এই নির্বাচনের মাধ্যমেই সন্তানদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পাকাপোক্ত করতে।
-
সীমন্ত মৃণাল (এলজেপি-আর): পিছিয়ে নেই চিরাগ পাসওয়ানও। এলজেপি(আর)-এর অভ্যন্তরীণ খবর অনুযায়ী, পাসওয়ান পরিবারের নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে দিতে চিরাগ তাঁর ভাগ্নে সীমন্ত মৃণালকে এই নির্বাচনে সুযোগ দিতে পারেন।
অঙ্ক কী বলছে? বিহার বিধানসভার বর্তমান সংখ্যার ভিত্তিতে এনডিএ জোটের পাল্লা ভারী। বিজেপি ৮৯ এবং জেডিইউ ৮৫ জন বিধায়কের সমর্থনে এনডিএ নয়টি আসন অনায়াসেই নিজেদের ঝুলিতে ভরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মহাজোটের বিধায়ক সংখ্যা ৪১ হওয়ায় তারা বড়জোর একটি আসনে জয়ী হতে পারবে। আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে জেডিইউ চারটি এবং বিজেপি তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে প্রায় নিশ্চিত। বাকি আসনগুলো এলজেপি(আর) ও আরএলএম-এর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতে পারে।
পরিবর্তনের হাওয়া, কিন্তু লক্ষ্য একই একদিকে নীতীশ কুমার যখন নতুন মুখ আনার কথা বলছেন, তখন অন্যদলগুলোও ইবিসি (EBC), মুসলিম এবং দলিত সম্প্রদায় থেকে প্রার্থী খুঁজছে সামাজিক সমীকরণ ঠিক রাখতে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল ও মুখ বদলালেও বিহারের ক্ষমতার অলিন্দে ‘পারিবারিক রাজনীতির’ প্রভাব এতটুকুও কমেনি। বরং এটি এখন আরও সুসংহত হচ্ছে।
পরিশেষে, এই নির্বাচন আবারও প্রমাণ করল যে, বিহারের মাটিতে সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের কাছেই ক্ষমতার চাবিকাঠি বেশি সুরক্ষিত। ভোটের এই সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কী রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।