বকরিদেও নিরামিষ ভোজন? জানেন কি, নিরামিষাশী মুসলিমরা কীভাবে পালন করেন কোরবানির ঈদ?

বকরিদ বা ঈদুল আযহা মানেই চারদিকে মাংসের উৎসব। ইব্রাহিম (আঃ)-এর আত্মত্যাগের স্মরণে এই দিনে পশু কোরবানির প্রথা পালিত হয়। কিন্তু আধুনিক পৃথিবীতে এমন অনেক মুসলিম রয়েছেন, যারা নিরামিষভোজী বা ‘ভেজিটেরিয়ান’। প্রশ্ন জাগে, ভারতের ৮ শতাংশ বা ইন্দোনেশিয়ার ২ শতাংশ নিরামিষাশী মুসলিমরা তবে কীভাবে এই উৎসব উদযাপন করেন?
কোরবানি বনাম খাদ্যাভ্যাস ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী কোরবানি একটি বাধ্যতামূলক প্রথা নয়, বরং এটি তাদের ওপর বর্তায় যারা আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান। অনেক নিরামিষাশী মুসলিম কোরবানির বাধ্যবাধকতা পালন করতে অন্য পথ বেছে নেন। তাঁরা পশু কোরবানি দেওয়ার পরিবর্তে সেই অর্থের সমমূল্যের দান করেন দরিদ্র ও অসহায়দের মধ্যে। তাঁদের মতে, বকরিদের মূল শিক্ষা হলো ‘আত্মত্যাগ’ এবং ‘দান’, যা কেবল মাংস বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
নিরামিষাশী মুসলিমদের উদযাপন যারা সরাসরি কোরবানি করেন না বা মাংস গ্রহণ করেন না, তাঁরা বকরিদকে একটি আধ্যাত্মিক ও সামাজিক উৎসব হিসেবেই দেখেন। তাঁদের উদযাপনের কিছু দিক হলো:
-
দান ও সেবা: মাংস না কিনলেও, তাঁরা তাদের সাধ্যমতো অর্থ বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী অভাবী মানুষদের মধ্যে দান করেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা নিরামিষ খাবার রান্না করে প্রতিবেশী ও গরিবদের মধ্যে বিতরণ করেন।
-
ধর্মীয় আচার: পরিবারের সবাই মিলে ঈদের বিশেষ নামাজ পড়া, দোয়া করা এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য থাকে।
-
মানসিকতা: এই ধরনের মুসলিমদের মতে, বকরিদ ত্যাগের উৎসব। পশু কোরবানির পাশাপাশি তাঁরা নিজেদের মনের ভেতরের ‘অহং’ বা ‘লোভ’-কে উৎসর্গ করার শিক্ষা গ্রহণ করেন।
একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নিরামিষাশী মুসলিমরা মনে করেন, ধর্ম পালন ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। তুরস্ক বা সৌদি আরবের মতো দেশেও নিরামিষাশী মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে। তাঁরা মনে করেন, উৎসবের দিনটিতে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই বড় কথা, তা সে মাংসের মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনো মানবিক কাজের মাধ্যমে।
পরিশেষে, বকরিদ নিছক কোনো মাংসের উৎসব নয়; বরং এটি মমতা, দান এবং ত্যাগের এক মহামিলন। নিরামিষাশী মুসলিমরা তাঁদের নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখেও এই দিনটির সামাজিক ও ধর্মীয় মাহাত্ম্য সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করেন এবং পালনে কোনো খামতি রাখেন না।