এভারেস্টই শেষ ঠিকানা! শৃঙ্গ জয়ের পর প্রাণ হারালেন পর্বতারোহী, দেহ আনতে মানা পরিবারের

লক্ষ্য ছিল এভারেস্ট জয়। স্বপ্ন পূরণও হয়েছিল ৫৩ বছর বয়সি তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী অরুণ কুমার তিওয়ারির। কিন্তু শৃঙ্গ থেকে ফেরার পথেই নেমে এল অমানিশা। হিলারি স্টেপের কাছে শরীরী ক্লান্তি আর প্রতিকূলতার কাছে হার মেনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এই দক্ষ পর্বতারোহী। তবে মৃত্যুর পরও এভারেস্ট ছাড়ছেন না তিনি; অরুণের দেহ পর্বতশৃঙ্গেই রেখে দেওয়ার সাহসী ও আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত নিল তাঁর পরিবার।

কেন এই কঠিন সিদ্ধান্ত? পরিবারের যুক্তি, তাঁদের কাছে এভারেস্ট মানে ‘শিবের আলয়’। অরুণের জামাইবাবু সুধীর উপাধ্যায় জানান, “অরুণ চিরকালই পাহাড় ভালোবাসত। ভগবান শিবের আশ্রয়ে থাকাটাই ওর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এছাড়া আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় ‘ডেথ জোন’ থেকে দেহ উদ্ধার করা উদ্ধারকারীদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এই প্রতিকূল পরিবেশে দেহ অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।” পাশাপাশি, উদ্ধারকার্যের বিপুল খরচ এবং উদ্ধারকারীদের প্রাণের ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়েছে পরিবার।

পাহাড়ের নেশায় বুঁদ জীবন অরুণ কুমার তিওয়ারি কেবল একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী ছিলেন না, ছিলেন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী। এর আগে তিনি রাশিয়ার মাউন্ট এলব্রুজ, আলাস্কার মাউন্ট ডেনালি এবং আর্জেন্টিনার মাউন্ট আকেনকাগোয়ার মতো দুর্গম শৃঙ্গ জয় করেছেন। গত বছর অসুস্থতার কারণে ৭২০০ মিটার থেকে ফিরে আসতে হলেও, জেদ ছাড়েননি তিনি। এবছর এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলেও, স্ত্রী ও দুই কন্যাকে রেখে চিরতৃপ্তির খোঁজে পাহাড়ের কাছেই চিরস্থায়ী ঠিকানা বেছে নিলেন তিনি।

এভারেস্টে দেহ উদ্ধার কেন কঠিন? বিশেষজ্ঞদের মতে, মাউন্ট এভারেস্টের ৮০০০ মিটারের ওপর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক কাজ। অক্সিজেনহীনতা ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শরীর বরফের মতো শক্ত হয়ে যায়। একটি দেহ উদ্ধার করতে ৮ থেকে ১২ জন দক্ষ শেরপার প্রয়োজন হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। একই অভিযানে সন্দীপ আরে (৪৬) নামে আরও এক পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়, তবে তাঁর দেহ ক্যাম্প-২ পর্যন্ত নামিয়ে আনা সম্ভব হলেও, অরুণের ক্ষেত্রে পরিবার ভিন্ন পথ বেছে নিল।