পুরীর হোটেলে ‘রাজকীয়’ গা ঢাকা! শেষরক্ষা হলো না, গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল

অবশেষে পুলিশের জালে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। দীর্ঘ ১৩ দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর ওড়িশার পুরীর একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে বুধবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। নির্বাচনের পর বিরোধীদের হুমকি ও উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে এই গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

পুরীতে গোপন ডেরা: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে STF-এর একটি বিশেষ দল পুরীর নিউ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন হোটেলে অভিযান চালায়। সেখান থেকেই তাঁকে পাকড়াও করা হয়। জানা গিয়েছে, তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কলকাতায় আনার পর তাঁকে দফায় দফায় জেরা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

পালানোর কাহিনি: গত ১৪ মে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিধায়কের পৈলানের বাড়িতে হানা দিয়েছিল। পুলিশ পৌঁছানোর ঠিক আগেই তিনি সটান চম্পট দেন। তল্লাশির সময় তাঁর বাড়ির রাজকীয় আয়োজন দেখে চমকে গিয়েছিল পুলিশ। বিশাল বাড়ি, ব্যক্তিগত সুইমিং পুল, সাজানো বাগান, এমনকি বাড়িতেই ছোট চিড়িয়াখানা দেখে হতবাক হন তদন্তকারীরা। পালানোর সময় তিনি নিজের দুটি মোবাইল ফোনও বাড়িতে ফেলে রেখে গিয়েছিলেন।

হাইকোর্টেও ব্যর্থতা: গ্রেফতারি এড়াতে ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দিলীপ মণ্ডল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে আইনি সুরক্ষার আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিলেও, শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার সুবিধা তিনি পাননি। এর আগে, ১৭ মে তাঁর ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডল-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

কেন এই গ্রেফতারি? নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিরোধীদের উদ্দেশ্যে হুমকি এবং জনমানসে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ ছিল এই বিধায়কের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত পুরীর হোটেল থেকে এসটিএফ-এর হাতেই ধরা পড়লেন তিনি।

তৃণমূল বিধায়কের এই গ্রেফতারির পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপ পরবর্তী সময়ে কী মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।