তৃণমূল ছাড়ছেন না কাকলি? সব পদ ছাড়লেও ‘কর্মী’ হিসেবেই থাকতে চান সাংসদ!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ গভীর হচ্ছে সংকট। দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বারাসতের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তবে পদত্যাগ করলেও তিনি এখনই দল ছাড়ছেন না বলে জানিয়েছেন, বরং সাধারণ কর্মী হিসেবেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা ও নানা প্রশ্ন।
পদত্যাগের নেপথ্যে কী কী কারণ? সুব্রত বক্সিকে পাঠানো ইস্তফাপত্রে কাকলি ঘোষ দস্তিদার সরাসরি তোপ দেগেছেন দলের নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—
-
দুর্নীতি ও অব্যবস্থা: রাজ্যের খাদ্য ও শিক্ষা দুর্নীতি এবং আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের রহস্যময় মৃত্যুকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
-
অশালীন আচরণ: দলের এক “অশিক্ষিত ও অভদ্র” সাংসদের বিরুদ্ধে সহকর্মী এক মহিলা সাংসদের প্রতি অশালীন আচরণের গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তিনি।
-
নেতৃত্বের ব্যর্থতা: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা না মেলায়, ক্ষুব্ধ নেত্রী লিখেছেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পেলে পদে থাকা অর্থহীন।”
-
I-PAC নিয়ে ক্ষোভ: দলের নির্বাচনী কৌশলী সংস্থা I-PAC-এর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
বিদ্রোহের সূত্রপাত কোথায়? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিদ্রোহের ভিত তৈরি হয়েছিল গত ১৪ মে। কালীঘাটে সাংসদদের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দেন। দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক আনুগত্যের বিনিময়ে এই ‘পুরস্কার’ মেনে নিতে পারেননি তিনি। ফেসবুক পোস্টে তাঁর সেই ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল। এরপর রবিবারই তিনি বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন।
শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে উপস্থিতি ও জল্পনা: সবচেয়ে বড় চমক ছিল মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি। কিন্তু সেই বৈঠকের পরেই তাঁর পদত্যাগের ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা ওই বৈঠকের সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
সাংসদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? বর্তমানে দলের সব দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েও ‘সাধারণ কর্মী’ হয়ে থাকার ঘোষণা রাজনৈতিক চাল কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি সরাসরি দল ছাড়ার চেয়েও বড় বার্তা। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিদ্রোহ কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।