তৃণমূল ছাড়ছেন কাকলি? ‘অভয়ার বিচার ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা!’, পদত্যাগপত্রে বিস্ফোরক সাংসদ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন বারাসতের সাংসদ তথা প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সুব্রত বক্সিকে পাঠানো তাঁর পদত্যাগপত্র ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
চিঠিতে বিস্ফোরক অভিযোগ: তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিকে পাঠানো ইস্তফাপত্রে কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর ক্ষোভের কারণ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। সূত্রের খবর, চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ‘অভয়ার মৃত্যু’র মতো স্পর্শকাতর ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। এছাড়া, নাম না করে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত? মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাকলি। সেই বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও, নেত্রী জানিয়েছিলেন সেটি কেবলই একটি প্রশাসনিক সভা। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বুধবার তাঁর এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অভ্যন্তরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দল ছাড়ার বিষয়ে কী বললেন? সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেও, বর্তমানে তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে তাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দলের অন্দরের খবর, পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে তিনি তাঁর ক্ষোভের কথা দলনেত্রীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। শীর্ষ নেতৃত্ব এখন কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্য রাজনীতি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো একজন অভিজ্ঞ নেত্রীর এহেন পদক্ষেপ শাসক দলের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে অভয়া কাণ্ড নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে, তখন দলের অন্দরে এই বিদ্রোহ তৃণমূলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হয়েছে।