রেশনে দুর্নীতি বন্ধে বড় পদক্ষেপ! দিল্লিতে চালু হচ্ছে ডিজিটাল কারেন্সি (CBDC), কীভাবে কাজ করবে এই ব্যবস্থা?

সরকারি রেশনের চুরি, কালোবাজারি ও অপব্যবহার রুখতে অভিনব ডিজিটাল পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দিল্লি সরকার। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)-এর সহযোগিতায় সরকার এবার নিয়ে আসছে ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি’ (CBDC), যা মূলত সরকারি রেশন বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। এই নতুন ব্যবস্থার ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতেই রেশন পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
কী এই সিবিডিসি ব্যবস্থা?
এটি মূলত রিজার্ভ ব্যাংকের তৈরি একটি ডিজিটাল মুদ্রা। এর মূল্য প্রচলিত নোট বা মুদ্রার সমান। তবে এই ডিজিটাল মুদ্রা সাধারণ কেনাকাটার জন্য নয়, বরং শুধুমাত্র সরকারি রেশন দোকানেই ব্যবহার করা যাবে।
কীভাবে কাজ করবে ডিজিটাল রেশন ব্যবস্থা?
ওয়ালেটে ডিজিটাল টাকা: রেশন কার্ডধারীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের সাথে সংযুক্ত ডিজিটাল ওয়ালেটে তাদের প্রাপ্য রেশনের সমপরিমাণ ডিজিটাল মুদ্রা পৌঁছে দেওয়া হবে।
সহজ পেমেন্ট: রেশন দোকানে গিয়ে গ্রাহকরা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে অথবা রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি (OTP) ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন। এতে সরাসরি ওয়ালেট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে।
ডিবিটি (DBT) থেকে কেন আলাদা?
সরকার এতদিন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা (DBT) পাঠাত, যা গ্রাহক যেকোনো প্রয়োজনে খরচ করতে পারতেন। কিন্তু সিবিডিসি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ডিজিটাল মুদ্রা শুধুমাত্র রেশন কেনার ক্ষেত্রেই খরচ করা যাবে। অন্য কোনো ব্যক্তিগত খরচে এই টাকা ব্যবহার করা সম্ভব নয়, যা দুর্নীতির পথ অনেকটাই বন্ধ করবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
দিল্লিতে বর্তমানে প্রায় ১৫.৪৬ লক্ষ রেশন কার্ড রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৬৪.৯৩ লক্ষ সুবিধাভোগী রেশন পান। শহরের ১৯৪৩টি রেশন বিতরণ কেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে দেওয়া গম ও চালের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে এবং পরবর্তীতে চিনির ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য:
রেশন ডিলারদের কাছে খাদ্যশস্যের নয়ছয় বা কালোবাজারি ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় রেশনের কোনো স্টক আর বাইরে বিক্রি করা সম্ভব হবে না। সরকারের এই ডিজিটাল উদ্যোগ সফল হলে তা দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলোর জন্যও একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।